সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনে রদবদল জরুরি
পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট মনোনীয় প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১০ বছর পর জনগণ আবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এজন্য তাদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। শুক্রবার বিএনপির পক্ষ্য থেকে আসনটিতে তাকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর ‘দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’কে তিনি একথা বলেন।
কলাপাড়া এবং রাঙ্গাবালী এই দুইটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ১১৪নং এই আসনে এবার ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক এই সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক। তিনি বলেন, ১০ বছর পর জাতি একটি অর্থবহ নির্বাচনের প্রত্যাশা করলেও রয়েছে ব্যাপক সংশয়। জনগণ ভোট দিতে পারবে কিনা সেই নিশ্চিয়তা কিংবা পরিবেশ তৈরী হয়নি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি দলের (আওয়ামী লীগ) এজেন্ডা বাস্তাবায়নের জন্য কাজ করছে। গত ১০ বছরের ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যেকোনো নির্বাচনের আগে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনে রদবদল করা হয়। একাদশ সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে অথচ বিষয়টি এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ক্ষমতাসীন দল ও জোটের প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসবের বিরুদ্ধে ইসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উপরন্তু বিএনপি ও তার জোটভুক্ত দলের প্রার্থী, কর্মী, সমর্থকদের এখনও গ্রেফতার, হয়রানি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না যথাযথভাবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের সাংবিধানিক অধিকার হরণে কমিশনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকাও লক্ষণীয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন পেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তারপরও ১০ বছর ধরে দেশে যে গণতন্ত্রহীনতা চলছে তার অবসান হওয়া দরকার। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধার সংগ্রামের কারণে আজ কারাবন্দি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, প্রথমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই তার দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য কষ্টের উল্লেখ করে একে শক্তিতে পরিণত করার কথা বলেছেন মোশাররফ।
তিনি বলেন, বন্দি খালেদা জিয়া, মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাকে মুক্ত করতে নির্বাচন যুদ্ধে দৃঢ়তার সাথে লড়াইয়ে নেতাকর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই নির্বাচনে দেশনেত্রী সবচেয়ে বড় শক্তি বলে দাবি করেন তিনি। এই নির্বাচনে দেশের মানুষ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে অন্যায় করা হচ্ছে তার জবাব দেবেন বলে আশাবাদী তিনি। নির্বাচনের দিন যত সন্নিকটে অাসছে মানুষের মাঝে সেই জোয়ার বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এবিএম মোশাররফ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় তারা ভোটারদের কাছে গত ১০ বছরে সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরবেন। একইসাথে তুলে ধরবেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রুপরেখা। বিএনপির ভিশন ২০৩০ এর আলোকেই ইশতেহার তৈরী হচ্ছে বলে তিনি জানান। যাতে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, সরকারি চাকুরিতে বয়সসীমা উঠিয়ে দেওয়া হবে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে গ্রেফতার, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ক্ষমতায় গেলে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানান।