জাতীয় নির্বাচনের পরেই রাকসু নির্বাচন চাই
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান দাবি করেছেন প্রশাসন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে। তবে ছাত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। রাকসুর দাবিতে শুরু থেকে সরব ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি ছাত্র ফেডারেশন। রাকসু নির্বাচনের দাবি আদায় ও ছাত্রদের অধিকার আদায়ে ছাত্র ফেডারেশন নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মোড়ল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি-এস এফ রহমান
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: বিগত কয়েকমাস আগেও আপনারা রাকসু নির্বাচন নিয়ে সরব ছিলেন। এখন চোখে পড়ার মতো কর্মসূচী নেই। এর কারণ কি ?
সুমন মোড়ল: আপনি খেয়াল করবেন যে, সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনের যে গতি ছিল সেটি একটু হলেও কমে গেছে। ছাত্র রাজনীতির সাথে জাতীয় রাজনীতির একটা সম্পর্ক বিদ্যমান। জাতীয় রাজনীতিতে একচেটিয়া যেভাবে স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি বিরাজমান সেটা ছাত্র রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। সেই জন্য ছাত্র আন্দোলন আগের চেয়ে সোচ্চার ভূমিকায় নেই।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আন্দোলনও ভাটা পড়েছে। এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা কোন ধরণের চাপ আছে কি?
সুমন মোড়ল: ছাত্র আন্দোলন করার ক্ষেত্রে সে ধরণের কোন চাপ আমাদের উপর আসেনি। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনে সরব ছিল। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে কম সোচ্চার ছিলাম। তার মানে এই না যে আমরা একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা ভাবছি কিভাবে এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা যায়। তবে বলতে হবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ কমে গেছে।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ছাত্রদের উপস্থিতি বা অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন?
সুমন মোড়ল: সাম্প্রতিক সময়গুলোতে ছাত্রদের ভেতর থেকে তাড়না কম ছিল। আপনি বিশেষ করে দেখবেন যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলন এই বড় দুইটা উপমহাদেশের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলন। যে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলপ্রসু না হওয়ায় ছাত্ররা দেখছে আন্দোলন করে কোন লাভ হচ্ছে না। তাই ছাত্রদের ভেতর থেকে সচেতনতা কমে গেছে। তারা অনেকটাই হতাশ।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: এই মুহুর্তে রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্য প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচী কি?
সুমন মোড়ল: আমরা এরই মধ্যে উপাচার্য স্যারের সাথে দেখা করেছি। স্যারের পক্ষে সেখানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া স্যার আমাদের সাথে কথা বলেছেন। উনি বলেছেন প্রশাসন প্রস্তুত। আমরা প্রগতিশীল জোটভুক্ত সংগঠনগুলোও প্রস্তুত। আমরা দাবি করেছি, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনভাবে রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যায় কিনা? কিন্তু এই সময়ে সম্ভব না হলেও জাতীয় নির্বাচনের পরেই প্রশাসন অতিদ্রুত রাকসু নির্বাচনের পদক্ষেপ নিবেন।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: রাকসু নির্বাচন না দিলে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে বা পড়বে বলে আপনি মনে করেন?
সুমন মোড়ল: কেবলমাত্র জাতীয় নেতৃত্ব বিকাশের জন্য রাকসুসহ দেশের সকল ছাত্র সংসদ কার্যকর থাকা দরকার ছিল। সচল না থাকায় জাতীয় নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে বড় শূণ্যতা তৈরি হয়েছে। একই সাথে ছাত্রদের কোন প্রতিনিধিত্ব ক্যাম্পাসে থাকছে না। যার ফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। এজন্য আমরা মনে করি ছাত্র সংসদ অচিরেই কার্যকর করা দরকার। এছাড়া নির্বাচন হলে ছাত্র ফেডারেশন নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে। তবে জোটের অন্তর্ভূক্ত থাকায় সংগঠনটির থেকে একক প্রতিনিধি না থাকলেও জোটের পক্ষ থেকে অবশ্যই আমাদের প্রতিনিধি থাকবে।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: নির্বাচন হলে যেহেতু প্রতিনিধি থাকবে সেহেতু শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাওয়া নিয়ে কী ভাবছেন?
সুমন মোড়ল: এখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষের বা বামপন্থী ও ডানপন্থী কথা না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের পক্ষে যে ছাত্র সংগঠনগুলো কথা বলেছে শিক্ষার্থীরা তাদেরকেই সমর্থন করবে বলে আমরা মনে করি। এই মুহুর্তে নির্বাচন হলে আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস: ধন্যবাদ আপনাকে।
সুমন মোড়ল: আপনাকে এবং দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকেও ধন্যবাদ।