০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:১৩

উত্তরাখণ্ডে হঠাৎ হিমবাহ ধস, জলোচ্ছ্বাসে বহু হতাহতের শঙ্কা

হিমালয়ের নন্দাদেবীর এই শৃঙ্গের কাছেই হিমবাহ ধসে বিপর্যয় ঘটে  © সংগৃহীত

ভারতের উত্তরাখণ্ডে হিমালয়ের নন্দাদেবী শৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহ ধসে ভাটির বিস্তীর্ণ এলাকাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সেখানের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত অন্তত দেড়শ কর্মীর কোনো সন্ধান মিলছে না। তাদের বহুজনের প্রাণহানির শঙ্কা করা হচ্ছে। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে চামোলি জেলায় এ দুর্ঘটনায়

হিমবাহ ধেসের কারণে তীব্র জলরাশি অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গা নদীতে আকস্মিক বন্যা ডেকে আনে। ওই নদী দুটোতে জলস্তর হঠাৎ করেই বেড়ে যায় বেশ কয়েক মিটার।

এ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির আমি নজর রাখছি। এই বিপদে সারা ভারত উত্তরাখণ্ডের পাশে আছে।

এদিকে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মুখ্য সচিব ওম প্রকাশ বার্তা সংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, অ্যাভালাঞ্চ বা হিমবাহ ধসের পর যে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা হয়েছে তাতে অন্তত একশো থেকে দেড়শো মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন। 'ফ্ল্যাশ ফ্লাডে' আরও বেশ কয়েকশো মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। বহু লোকের খোঁজ মিলছে না।

ভাটিতে যে ঋষিগঙ্গা বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, বন্যার প্রথম আঘাতটা সেখানেই পড়ে। উত্তরাখণ্ডের স্টেট ডিজ্যাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী) ডিআইজি ঋধিম আগরওয়ালকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেড়শোরও বেশি কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

আগরওয়াল জানান, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছেন প্রোজেক্ট সাইটে কর্মরত দেড়শোর মতো কর্মীর সঙ্গে তারা যোগাযোগই করতে পারছেন না।

চামোলি জেলার ওই অঞ্চলে অনেকগুলো রেলপথ ও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেরও কাজ চলছে। সেখানে যে সব শ্রমিক ও কর্মচারীরা রয়েছেন, তাদের সুরক্ষা নিয়েও প্রবল উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের দুশো কর্মী ইতিমধ্যেই ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) পাঁচটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে, যার চারটি গেছে দিল্লি থেকে, আর একটি দেরাদুন থেকে।

ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ নামে ভারতের যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী চীন-লাগোয়া ওই অঞ্চলটিতে প্রহরার কাজে মোতায়েন, তাদেরও দুটো দল বন্যাবিপর্যস্ত এলাকায় তল্লাসি ও উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। খবর: বিবিসি বাংলা।