০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৫৪

তরুণরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে অপরাধের মাত্রা কমে আসে

  © ফাইল ফটো

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ৯ ডিসেম্বর (আজ বুধবার) জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দুর্নীতির প্রতি শুন্য সহনশীলতা: দুর্নীতি থামাও, জীবন বাঁচাও’ এই প্রতিপাদ্যে দিবসটি উদযাপন করছে সংস্থাটি।

জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ অনলাইনে ‘দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তারুণ্য: কার্টুন ও চিত্রশিল্প’ শীর্ষক একটি আলোচনা এবং ১৫তম দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ঘোষণা ও অনলাইন প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এসময় আলোচনায় অংশ নেন টিআইবির ন্যায়পাল ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অংকন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও কার্টুনিস্ট শিশির ভট্টাচার্য এবং দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট শাহরিয়ার খান।

স্বাগত বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আজ আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হলেও টিআইবির জন্য প্রতিটি দিনই দুর্নীতিবিরোধী দিবস। তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে যেসব মাধ্যম ব্যবহার করে টিআইবি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছে তার মধ্যে সাংস্কৃতিক মাধ্যম অন্যতম। কবিতা, গান, গল্প, নাটিকা, সংস্কৃতি মেলার পাশাপাশি ২০০৬ সাল থেকে কার্টুন প্রতিযোগিতা এই মাধ্যমের প্রধানতম অনুষঙ্গ, যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া তরুণ সব কার্টুনিস্টদের অভিনন্দন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে টিআইবির ন্যায়পাল ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হলে এটি শুধু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করলেই হবে না, এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ করতে হবে। তাই ছবি বা কার্টুন আঁকার মধ্য দিয়ে তরুণরা যখন এই দায়িত্বটা নিয়ে নেয়, তারা শুধু নিজেরাই অংশগ্রহণই করে না বরং পরিবারের সবাইকে অংশগ্রহণ করায়, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাতে অন্তত একটা সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তরুণদের এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ফলাফলটা সুদূরপ্রসারী। এর মধ্য দিয়ে নিরব বিপ্লব সাধিত হয়; মানুষের মধ্যে একটা অন্তর্গত পরিবর্তন ঘটে, যেটি অত্যন্ত জরুরি।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের শুরুর দিকে দুর্নীতির একটা উৎসব শুরু হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, তরুণরা যখন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করে তখন এর মাত্রা কিছুটা কমে আসে। করোনার প্রতিষেধক যখন আসবে তখন এই দুর্নীতির মাত্রা আবার বাড়বে। তাই তরুণরা যদি তখন প্রতিষেধক নিয়ে হতে যাওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে না সোচ্চার না হয় তাহলে এই প্রতিষেধক কোনদিন দরিদ্র মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে না।

আলোচনা শেষে টিআইবির ১৫তম দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রতিযোগিতা ২০২০-এর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।