১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:০৩

দেড় হাজার টন ইলিশ ঢুকছে: ভারতীয় পত্রিকার খবর

  © ফাইল ফটো

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার টন ইলিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিক খবরে বলা হয়েছে, এবার পুজোর আগেই রাজ্যে পদ্মার এসব ইলিশ ঢুকছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বর্তমান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ। তবে আট বছরে পরিস্থিতি বদলেছে অনেকটাই। গত বছরেও পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার আর্জিতে সাড়া দিয়ে কয়েকশো টন পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সায় দেন বাংলাদেশ।

কূটনৈতিকদের মতে, তিস্তার জলবন্টন নিয়ে ভারতের টালবাহানার প্রতিবাদে ইলিশ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। গতবছর দীর্ঘ সাত বছর পরে ফের কলকাতার পাতিপুকুর বাজার হয়ে বাঙালির পাতে পৌঁছায় রুপোলি মাছ। এ বারেও বিশেষ অনুমতি ক্রমে প্রায় দেড় হাজার টন ইলিশ আগামী সপ্তাহেই রাজ্যে ঢুকছে বলে ইকনোমিক্স টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক মকসুদ জানান, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙালির কাছে বাংলাদেশের ইলিশের আলাদা একটা জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর ওজনটাও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যে ইলিশ এ বার বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছাবে সেগুলির ওজন ৮০০-১২০০ গ্রাম। পাইকারি বাজারে সেগুলির দাম হতে পারে ৮০০-১৪০০ টাকা প্রতি কেজি।

সেদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন কয়েক আগে ইলিশ উঠেছিল প্রায় ৩০০ টন। এর ঠিক উল্টো চিত্র অবশ্য বাংলাদেশে। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই, টানা ৬৫ দিন ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। গত ২৩ জুলাই রাত থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা ওঠে। তার পরেই ইলিশ ধরার ধুম পড়েছে সেদেশে। এবং গত কয়েক বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ উঠছে বলে খবর। ফলে ইলিশের রপ্তানি বাণিজ্যে এবার দরাজ হয়েছে বাংলাদেশ। বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ গত বছর দুর্গাপুজোর আগে ভারতে ইলিশ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করে নেন। ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় পাঁচশো টন ইলিশ পাঠানো হয়। সেটাকে ‘পুজোর উপহার’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ১০ অক্টোবরের পর ফের পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে যায়।