জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের তথ্য দিল ফেসবুক
মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যায় জড়িত থাকা দেশটির সেনাবাহিনীদের পরিচালিত কয়েকটি ফেইসবুক পেইজ এবং অ্যাকাউন্টের তথ্য জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদের সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিটি। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি দাবি করেছে, ফেসবুকের কাছে তদন্তের জন্য জোরালো প্রামাণিক তথ্য রয়েছে। এমন দাবির পরই জাতিসংঘকে তথ্য দিয়েছে ফেসবুক।
ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানান, মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া সামরিক হত্যাযজ্ঞ এবং অত্যাচার সম্পর্কিত ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম অন মিয়ানমার (আইআইএমএম)’র তথ্য সম্বলিত সব পোস্ট এবং কনটেন্ট তদন্তের জন্য মঙ্গলবার মার্কিন কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসব তথ্য ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিভিন্ন মহলের ‘ঘৃণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা’ হওয়ার কারণে সরিয়ে নিয়েছিল ফেসবুক। দেশটিতে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত চলাকালীন মার্কিন কর্তৃপক্ষকে যথা সম্ভব প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে
বলে জানান এই মুখপাত্র।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক নির্যাতন, রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে বাস্তুহারা করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে কাঠগড়ার মুখোমুখি হয় মিয়ানমার।
এদিকে গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে মিয়ানমার জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর হামলাকারী জঙ্গিদের উচ্ছেদের জন্য সেনাবাহিনী তাদের দেশটিতে বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তে ২০১৮ সালে আইআইএমএম গঠন করে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রধানত ফেসবুকের কারণেই সব মহলে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ঘৃণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গাদের প্রতি এ নির্মমতা আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।