১৩ মার্চ ২০২০, ১১:১৪

যেভাবে নিজ বুদ্ধিতে করোনা থেকে মুক্তি পেলেন এলিজাবেথ

  © সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের আক্রান্ত এক মার্কিন তরুণী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এজন্য সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু পথ বাতলে দিয়েছেন তিনি। ওই তরুণী বলেন, করোনাভাইরাসে ভয় পাবেন না। অসুস্থ বোধ করলে ঘরেই থাকুন। তার এই বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে সিএনএনও।

এলিজাবেথ স্নেইডার নামে ওয়াশিংটনের ওই বাসিন্দা বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে বাড়িতেই থাকুন, ঝুঁকি এড়ান। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলা সম্ভব। তা না হলে আতঙ্কের কাছে পরাজিত হওয়ার সুযোগ থাকে। এএফপিকে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

সিয়াটেলের বাসিন্দা ৩৭ বছরের এলিজাবেথ বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছেন। একটি বায়োটেকনোলজি সংস্থার মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে পদে কর্মরত। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তিনি বাড়ি ফিরে এসে বিশ্রাম নেন। ভেবেছিলেন অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে এমনটা হয়েছে।

তবে ঘুমানোর পর তীব্র জ্বরের উপস্থিতি টের পান, রাতেই তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে উঠে। ওই সময় তার অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি শুরু হয়; ঠাণ্ডা লাগায়। এছাড়া ঝিমঝিম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেউদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে ঠাণ্ডার ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে নিতে পারবে এমন এক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে আসেন। তবে পরের কয়েকদিনেই তার জ্বর কমে যায়।

এলিজাবেথের কাশি বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল না, তাই সাধারণ ফ্লুর ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। বাড়িতেই থাকতেন। করোনাভাইরাস খবর পড়তে শুরু করেন। জানুয়ারির শেষ দিকে ওয়াশিংটনে ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য জানতে পারেন, তারপর আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান এবং ফ্লু-এর ওষুধপত্র খেয়ে নিজেকে ঘরবন্দি করেন।

স্নেইডার জানান, জ্বর আর মাথাব্যথা হলেও কাশি কিংবা শ্বাসজনিত উপসর্গ না থাকায় নিজেকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত বলে মনে করেননি তিনি। ওই তরুণী বলেন, আমি ভেবেছি, আমারটা করোনাভাইরাস নয়। ঠাণ্ডা লাগলেও তিনি সাধারণ হাঁচি-কাশি বলেই মনে করেছিলেন।

তবে আরও অনেকের তার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানতে পারেন এলিজাবেথ। এরপর সতর্ক হয়ে ওঠেন তিনি। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন, যে পার্টিতে গিয়েছিলেন সেখানে যাওয়া কয়েকজন ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে পরীক্ষার পর ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি সঙ্গে সঙ্গে ডায়গোনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে ওই সেন্টারের কর্মীরা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, কভিড-১৯ পজিটিভ তিনি। মানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এলিজাবেথ।

এরপর তিনি যা করলেন তা শিক্ষণীয়। মন ও মস্তিষ্ক স্থির করে নিজের বাড়িতে ‘ইমারজেন্সি’ ঘরে চলে যান। সেখানেই কোয়ারেন্টাইনে রাখেন নিজেকে। কোনো জমায়েত নয়, বাইরে কোথাও বের হননি। ঘর থেকেই কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রচুর পানীয় খান, শরীর যাতে শুকিয়ে না যায়।

এভাবেই চলে ১০ দিন। তবে তিনি খুব বেশি অসুস্থ বোধ করছিলেন না। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সংক্রমণ মুক্ত। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেরে ওঠার কাহিনি শেয়ার করেন।

তিনি লেখেন, ‘আমার গল্প শুনে মানুষ একটু ভরসা পাবেন। যেভাবে করোনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে চাই, ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। সাবধানে থাকুন। শরীর খারাপ লাগলে, বাড়িতে থাকুন। সন্দেহ হলে অবশ্যই পরীক্ষা করান। উপসর্গগুলো জীবন সংহারি না হলে ঘরেই থাকুন। ওষুধ খান, প্রচুর পানি পান করুন, বিশ্রাম নিন। ভিড় জায়গায় যাওয়া মানেই অন্যদের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়া।’