০৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:৩৫

যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেল মার্কিন সেনারা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা  © সংগৃহীত

গত সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রতিশোধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। আর তাদের এই পূর্ব প্রস্তুতির কারণেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পান মার্কিন সেনারা। মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট এমন দাবি করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রথম হুশিয়ারিগুলো আসে। এছাড়া ইরাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও জানা যায় যে ইরান হামলা চালাতে ইচ্ছুক। মঙ্গলবার বিকালে তারা জানতে পারেন– ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় হামলা করতে যাচ্ছে ইরান।

প্রাণহানি এড়াতে ইরাকিদেরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে যে দাবি করা হয়, অন্যরা এসব গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যদি ইরাকিরা সতর্কবার্তা দিতেন, তবে এটা নিশ্চিতভাবে কয়েক ঘণ্টা আগে হওয়ার কথা না।

এক কর্মকর্তা বলেন, আক্ষরিক অর্থে এটা হামলার আগেই। মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক এ. মিল্লি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক টি. এসপার।

হামলা আসছে– এই তথ্য পাওয়ায় মার্ক এসপার বৈঠক থেকে উঠে চলে যান। এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সেখানে ব্যাপক উদ্বেগ ছিল। আগাম প্রতিবেদনে কোনো হতাহতের কথা বলা হয়নি। কাজেই প্রথম দফা শেষে কিছুটা আশাবাদ দেখা গেছে। হামলার আগে অনেকে আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি ছেড়ে পশ্চিম ইরাকে চলে যান। উত্তর ইরাকের ইরবিলে একটি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি আল-আসাদে হামলা চালানো হয়েছে।

বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, জীবন না খোয়ানোর জন্য আগাম সতর্ক ব্যবস্থাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বললেন, সেনাবাহিনীর রাডার নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট। এই ব্যবস্থায় শত্রুদের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের খোঁজ বের করে দেয়।

প্রকৌশল মাধ্যম থেকে দ্বিতীয় হুশিয়ারি আসার কথা জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যা দিয়ে শত্রুদের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরেই তা শনাক্ত করা সম্ভব। হামলা হওয়ার পরপরেই মিত্রদের সতর্ক করে দেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ম্যারিন জেনারেল কেনিথ এফ. ম্যাককেনজি সেখানকার কমান্ডারদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের ছোট ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে তাদের ওপর আঘাত হানা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র ও লোকজনকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, কম সুরক্ষিত এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার এবং তারা যাতে অতিসুরক্ষিত এলাকায় আশ্রয় নিতে পারেন, সেটা সহজ করে দেয়া হয়েছে।সোলাইমানিকে হত্যার পর এভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিন্যাস করা হয়। তিনি বলেন, একই সময়ে একটি একক লক্ষ্যবস্তুতে খুব বেশি লোক যাতে জড়ো না হন, সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকাল চারটা থেকেই সম্ভাব্য ইরানি হামলার সতর্কবার্তা দিতে থাকেন রিপোর্টারদের। এর ঘণ্টাখানেক পরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের তখন টেলিভিশনে একটি সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল, তিনি সেই অনুষ্ঠান বাতিল করেন।