পাল্টা আঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার হুমকি ইরানের
ইরাকে অবস্থিত দুই মার্কিন বিমান ঘাটিতে ১২টির বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরবিল ও আল-আসাদ বিমান ঘাটিতে মিসাইল হামলা হয়েছে। ইরান থেকেই মিসাইলগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে ইরান বলেছে, মিসাইল হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের হামলা চালালে মার্কিন ভূখণ্ডে হামলা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ জেনারেল কাশেম সোলেইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করার জবাব হিসাবে এই হামলা করা হয়েছে। ইরাকের আল-আসাদ নামের ওই বিমান ঘাটিতে বেশ কয়েকটি মিসাইল হামলা করে।
হোয়াইট হাউজ পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ও সহযোগীদের সকল কর্মীকে রক্ষায় দরকারি সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এই মিসাইল হামলায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা, তা পরিষ্কার নয়।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলেছেন, ইরাকের একটি মার্কিন ঘাটিতে হামলার খবরের ব্যাপারে আমরা সচেতন রয়েছি। প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে অবহিত হয়েছেন এবং তিনি গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। জাতয়ি নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি।
আজ বুধবার ভোররাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ দেশটির ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে তাকে বিশাল জনসমাগমের সামনে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত আমাদের আঘাত করবে। কিন্তু আমরা তাদের আরো বেশি আঘাত করবো।
খামেনি বলেন, ‘আমি এক সময় বলেছিলাম, হিট এন্ড রান (হামলা করে লুকিয়ে পড়া) এর সময় শেষ। তোমরা যদি আঘাত করো আমরাও পাল্টা আঘাত করবো। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা তা জানা যায়নি।
ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড জানিয়েছে, সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডের বদলা হিসাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সব সহযোগীদের আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি, যারা তাদের ঘাটিগুলোকে এই সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দিয়েছে, যেখান থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হবে, সেটাই লক্ষ্যবস্তু করা হবে, ইরানের ইরনা নিউজ এজেন্সিতে এক বিবৃতিতে বলেছে বাহিনীটি।