ঘুষখোর ধরতে ইউএনও’র ‘ঘুষ বোর্ড’
ঘুষখোর ধরতে অভিনব ‘ঘুষ বোর্ড’ পদ্ধতি চালু করেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। এতে লেখা রয়েছে, ‘এই অফিসে যদি কাউকে ঘুষ দিয়ে থাকেন, তবে এই বোর্ডে বিবরণ লিখে যাবেন’। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়ালে বসানো হয়েছে এই বোর্ড।
ঘুষ নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘুষ ঠেকাতে এই অভিনব উদ্যোগটি উপজেলার সরকারি অফিসের মধ্যে প্রথম। এছাড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ লেখা স্টিকার।
নিজের কার্যালয়ে ‘ঘুষ বোর্ড’ লাগানোর কারণ ব্যাখ্যা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, সেবাপ্রার্থীরা সেবা নিতে এসে এ ধরণের অনৈতিক প্রস্তাব পেতেই পারেন। কিন্তু সেবা না পাওয়ার ভয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেকে এই প্রস্তাবে রাজি হতে বাধ্য হন। তাদের সহায়তার জন্যই এই ‘ঘুষ বোর্ড’।
তিনি বলেন, সেবা পাওয়া নাগরিক অধিকার। সেবা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ ঘুষ চাইলে বা ঘুষ দিতে বাধ্য করলে সেবাপ্রার্থী বিষয়টি এই বোর্ডে লিখে যেতে পারেন। এতে অসৎ কর্মচারীকে আমরা চিহ্নিত করতে পারবো। যদি একজনও এ ধরণের অনিয়মের কথা লিখে যেতে পারেন, তবেই আমাদের সফলতা। এতে অন্তত ঘুষখোরদের পরিচিতি প্রকাশ করা যাবে।
মো. রুহুল আমিন বলেন, ঘুষ লেনদেনে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে ভূমি অফিস, পৌরসভাসহ সব সরকারি কার্যালয়ে ‘ঘুষ বোর্ড’ বসানোর পরিকল্পনা আছে।
উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ঢোকার সময় দেয়ালে ঘুষ বোর্ড ও তার অফিসের দরজায় দুর্নীতিমুক্ত লেখা স্টিকার তথা একজন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার ঘুষের ব্যাপারে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সব স্তরের জনসাধারণ।