২২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৩

শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলা: কি ঘটেছিল সেদিন

  © সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় ইস্টার সানডে চলাকালীন সময় দুর্বৃত্তদের কয়েক দফায় বোমা হামলার ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হওয়া দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। জারি করা এ কারফিউ চলবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।

জানা যাচ্ছে দেশটিতে সিরিজ বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কায় ওই বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবারের দুইজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

রবিবার রাতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য একটি হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছে সতর্কতামূলক তথ্য ছিল। তবে হামলা হলেও, কারা এই হামলা চালিয়েছে, এখনো তা জানাতে পারেনি সরকার।

গুজব বা মিথ্যা খবর ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সেবাগুলোয় অনেকে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দেশটির প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি হাতে বানানো বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী।

বাংলাদেশি আহত
শ্রীলঙ্কায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি কারো পরিচয় জানাননি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বাসস জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনেই সফরের সময় একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।

তিনি বলেছেন, সেলিমের মেয়ে-জামাই ও নাতি এ সময় একটি রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলেন। সেখান একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে মেয়ে-জামাই আহত হন এবং (গতকাল) বিকেল পর্যন্ত নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

শাহরিয়ার আলম বলেছেন, 'আমরা জেনেছি একটি পরিবারের চারজনের মধ্যে দুজন ‘রিপোর্টেড’ ( তারা অক্ষত আছেন)। বাকি দুজনের একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিখোঁজ। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো কিছুই জানা যায়নি। আমরা আশা করছি তাদের কোনো হোটেল বা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আমরা জানতে পারলেই জানিয়ে দেয়া হবে।

যেভাবে হামলা হয়
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যখন ইস্টার সানডে পালন করছিল তখন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রথম হামলা হয় স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টায়। তিনটি গির্জায় অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণ হয়েছে। যে গির্জাগুলোতে বিস্ফোরণ হয়েছে সেগুলো কোচ্চিকাডে, নেগম্বো এবং বাট্টিকালোয়ায় অবস্থিত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেগম্বোর সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জার ছাদ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং রক্ত ছড়িয়ে আছে। এছাড়া রাজধানী কলম্বোতে অবস্থিত তিনটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিস্ফোরণ হয়েছে।

কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি, তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের ধারণা, কোন কোন স্থানে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী অংশ নিয়েছিল।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ভয়াবহ হামলা।

শ্রীলংকা সম্পর্কে কিছু তথ্য
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা গত কয়েকশ বছর ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে। কিন্তু দেশটিতে বহু বছর ধরে তুমুল গৃহযুদ্ধ চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে এ যুদ্ধ চলেছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে।

২৫ বছর ধরে চলা সে সংঘাতের অবসান হয় ২০০৯ সালে। সরকারী বাহিনী যখন বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাটি দখল করে নেয় তখন গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।

১৬ শতকের পর পর্তুগীজ এবং ডাচরা শ্রীলংকা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা স্বাধীনতা লাভ করে। শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫,৬০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠি যারা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ। এছাড়া মুসলিম ১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৭ শতাংশ।


[সূত্র: বিবিসি বাংলা]