১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৫৪

আফ্রিকার রাজনীতি নিয়ে অক্সফোর্ডের ডিকশনারি

আফ্রিকার রাজনীতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে মূলত এই আয়োজন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের।  © সংগৃহীত

পৃথিবীর বাকি আটটি দশটা দেশের রাজনীতি থেকে আফ্রিকার রাজনৈতিক কাঠামো অনেকটা ভিন্ন। ভোট, ব্যালট, বিল, মন্ত্রীসভার রাজনীতির সঙ্গে মোটামুটি সবাই পরিচিত। কিন্তু এ পরিচিতির বাহিরে গিয়ে এবার নতুন এক ডিকশনারি তৈরি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। সৃজনশীল, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও রসাত্মক ভঙ্গিতে আফ্রিকায় প্রচলিত রাজনৈতিক পরিভাষাগুলোর স্থান মিলেছে এ ডিকশনারিতে।

দ্য ইকোনমিস্টের খবরে বলা হয়েছে, ডিকশনারিটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তৈরি করার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আফ্রিকার মানুষও বিপুল উৎসাহে তাঁদের ভাষায় প্রচলিত বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিভাষা অর্থসহ পাঠিয়ে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ডিকশনারির বিভিন্ন প্রচলিত শব্দের মধ্যে যেমন, বেনিনে একটি শব্দ ‘ট্রান্সহিউম্যানস’। মূলত অভিবাসী হওয়ায় গৃহপালিত পশুপালকদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একই শব্দ ব্যবহার করে রাজনীতিবিদদের ব্যঙ্গ করতেও পটু আফ্রিকানরা। দল পরিবর্তন করা রাজনীতিবিদদের ব্যঙ্গ করতেই তারা মূলত এই ‘ট্রান্সহিউম্যানস’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন।

আফ্রিকানদের একটি প্রচলিত নাচ হলো ‘টোয়ি টোয়ি’। নাগরিকরা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ এই বিশেষ ধরনের নাচ নেচে থাকেন। অথচ এই ‘টোয়ি টোয়ি’ শব্দটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী কোনো দল বা ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকে তাদের দেশের জনগণ।

একসময়ের বর্ণবৈষম্যের শিকার আফ্রিকানদের বৈচিত্র্যময় এ পরিভাষাগুলোকে এক মলাটে নিয়ে আসতেই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের এই অভিনব উদ্যোগ। আফ্রিকার পরিভাষাগুলো যেমন সৃজনশীল, সেগুলো একত্র করে ডিকশনারি বের করার ধারণাকেও ভিন্ন অবকাঠামো বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।