ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই
শিক্ষক বাবার ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ রাসু। ডেন্টাল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আর কয়েক দিন বাকি থাকতেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনাময় সেই তরুণ রাসু পুড়ে গেল চকবাজারের আগুনে। পুড়ে কয়লা হলো তার দেহ, আর ছাই হলো তার স্বপ্ন। নিভে গেল পরিবারের সবচেয়ে বড় আশার প্রদীপও।
চকবাজারের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া হতভাগ্যদের একজন পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামের ইমতিয়াজ আহমেদ রাসু। বয়স মাত্র ২৫। তার বাবা নতুন ভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। সরকারি কলেজে ভর্তি হতে না পেরে চকবাজারেই একটি প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হয় সে। শেষ বর্ষে এসে একটি ক্লিনিকে প্রাকটিসও শুরু করেছিল। আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তারপরেই পুরোপুরি ডাক্তার হিসেবে জীবন শুরু করতে পারতো। কিন্তু আগুন তার স্বপ্ন পূরণ হতে দিলো না। তাকে নিয়ে গড়ে উঠা পরিবারের স্বপ্নও নিভে গেল। আশার পাল ছিড়ে গিয়ে এখন সেখানে শুধুই শোকের মাতম।
রাসুর বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ওর স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হয়ে এলাকার মানুষের সেবা করার। চিকিৎসক হওয়ার পেছনে ওর নিজের যেমন প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল, তেমনি আমিসহ পরিবারের সবারই এ নিয়ে স্বপ্ন ছিল। আগুনে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’
বুধবার রাতে চকবাজারের আগুন লাগার সময় রাসু ডেন্টাল ক্লিনিকে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতেই রাসুর লাশ সনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, রাসুরা দুই ভাই এবং তিন বোন। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট ভাই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছোট বোন উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্রী।