করতোয়া স্কুল এন্ড কলেজে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব
শীতকাল মানেই যেন পিঠা পুলির সমার্থক কোন ঋতু। সাধারণত এই সময়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি মহল্লায় পিঠা তৈরীর ধুম লাগলেও বর্তমানে এই পিঠা পুলির উৎসব শুরু হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এমনই এক পিঠা পুলির উৎসবের আয়োজন করে বগুড়া করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ।
মেলায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরিচালনায় ১২টি স্টলে প্রায় ৩২ প্রকারের ভিন্ন স্বাদের মুখরোচক পিঠার প্রদর্শন করা হয়।
অদিতি সিনহার পরিচালনায় পৌষ-পার্বণ স্টলে ২৮ প্রকারের পিঠার আয়োজন করা হয়। তারমধ্যে দুধপুলি, পুলি পিঠা, দুধ পিঠা, সেমাই পিঠা, ঝাল কুশলী,চিকেন বল, চিকেন রোল, তেলপিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, মাছ পিঠা,গোলাপ পিঠা, দই ফুচকা, সবজি পাকোড়া, বাধাকপি পাকোড়া, তিনকোণা পিঠা, রিং পিঠা, নকশী পিঠা উল্লেখযোগ্য। সেলিনার পরিচালনায় পিঠা পল্লীতে স্থান পায় ২২ প্রকারের পিঠা। বাণিজ্য বিভাগের পরিচালনায় পিঠা ভান্ডারে আয়োজন করা হয় ৩২ প্রকারের পিঠা।
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর আয়োজনে রেইনবো বকস্ এ ১৮ প্রকারের পিঠা স্থান পায়, একই শ্রেণীর পরশ প্রীতি নামের স্টলে প্রদর্শীত হয় ১৩ প্রকারের পিঠা, লাবণ্য পিঠা ঘরে প্রদর্শীত হয় ১০ প্রকারের পিঠা। একাদশ শ্রেণীর টগর নামের স্টলে আয়োজন করা হয় ১২ প্রকারের পিঠা, টিউলিপ শাখার নিমন্ত্রণে ১৩ প্রকার, ডালিয়া পিঠা ঘরে ৩০ প্রকারের, একাদশ রঙ্গন শাখার পরিচালনায় ৩০ প্রকারের পিঠার আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০ টা থেকে পিঠা মেলা শুরু হলেও গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়ে এবং প্রচন্ড চাহিদার কাছে দুপুর ১টার মধ্যেই বেশিরভাগ স্টল পিঠাশূণ্য হয়ে পড়ে। তবে দ্রুত পিঠাগুলো বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আয়োজকরা খুবই উচ্ছ্বসিত। পিঠার আয়োজকরা জানালেন এ রকম চাহিদার বিষয়টি আগে অনুধাবন করতে পারলে আরো বেশি করে পিঠা সরবরাহের ব্যবস্থা তারা করতেন।
কলেজ ক্যাম্পাসে পিঠার স্টল ছাড়াও চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি চলে আকর্ষণীয় পুরস্কার সন্নিবেশিত র্যাফেল ড্রর টিকেট বিক্রির ধুম। পিঠামেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে সবাইবে উৎসাহিত করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ।
দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক ও করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা করলে শিশুরা লেখাপড়ায় আরো মনোযোগি হবে। তাছাড়া বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পিঠা-পুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই পিঠা মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠানে এধরণের আয়োজন অব্যাহত রাখতে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।