মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৭০০, নিখোঁজ ৩০০

মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের ধসে পড়া একটি ভবন
মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের ধসে পড়া একটি ভবন  © সংগৃহীত

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমার। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০-তে, নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০০ জন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৪০০ জন। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অঙ হ্লাইং। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক ফোন কলে তিনি ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। 

এর আগে শুক্রবার (২১ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল। ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের পার্শ্ব ঘর্ষণে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির প্রধান মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো বিধ্বস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা পাঠানো ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামলাতে দেশটির হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। আহতদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, রক্তের ব্যাগ ও চেতনানাশকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ভূমিকম্পের আতঙ্কে নেপিদোসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা শনিবার রাতেও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কেউ কেউ অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। একের পর এক পরাঘাতের আশঙ্কায় ঘরবাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

দরিদ্র ও গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে দুই দশকের মধ্যে এত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই দুর্যোগ দেশটির অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গৃহযুদ্ধের কারণে আগে থেকেই লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন, এখন ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সংকট আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

ভূমিকম্পের পরপরই মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো, মান্দালয়সহ ছয়টি এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে সামরিক সরকার। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


সর্বশেষ সংবাদ