পদত্যাগ করলেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী
হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি পদত্যাগ করেছেন। হাইতিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সহিংসতার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন তিনি। গায়ানার প্রেসিডেন্ট ও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইরফান আলী এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসি।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিবিসি ও সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে হেনরির উপদেষ্টা জিন জুনিয়র জোসেফ বলেন, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী তার ভূমিকায় থাকবেন।
৭৪ বছর বয়সী হেনরি একজন নিউরো-সার্জন। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং সেখানে কাজ করেছেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি হাইতির রাজনীতিতে যুক্ত হন। এই সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাঁ-বারট্রান্ড অ্যারিস্টাইডের বিরোধী এক আন্দোলনের নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
২০২১ সালের জুলাইয়ে হাইতির সাবেক রাষ্ট্রপতিকে হত্যার পর এরিয়েল হেনরি দেশটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত তিন বছরে তিনি নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেননি। মূলত, এ নিয়েই দেশটিতে অস্থিরতা চলছিল।
সম্প্রতি হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সড়কগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় ভারী অস্ত্রধারী গ্যাংগুলো। তারা হাইতির অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হেনরির পদত্যাগের দাবি করে আসছিল। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় এই গ্যাংদের হামলায় নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে। কয়েক দিন আগে তাদের হামলায় কারাগার থেকে পালিয়ে যায় কয়েক হাজার বন্দি। এরপরই হাইতি সরকার জরুরি অবস্থা জারি করে।
হেনরি বর্তমানে পুয়ের্তো রিকোতে আটকা পড়েছেন। মূলত সশস্ত্র গ্যাংগুলোর বাঁধার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি। তার ফিরে আসায় বাধা দিতে সম্প্রতি বিমানবন্দরে হামলা চালায় গ্যাংরা।
ক্যারিবিয়ান নেতারা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হেনরির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পদত্যাগসহ কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তাকে। হেনরি পদত্যাগের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এমন অবস্থার মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন হেনরি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে হাইতিতে কোনো নির্বাচন হয়নি।