মার্টিনেজকে দেখতে কলকাতায় দর্শকদের বিশৃঙ্খলা, হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে
ঢাকায় সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাননি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে কলকাতায় গিয়ে সামনে এলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম সেরা এই নায়ক। তাকে দেখতে ভিড় উপচে পড়ল মিলনমেলা প্রাঙ্গণে। মঞ্চে উঠে পড়লেন প্রাক্তন ফুটবলারেরা। বিশৃঙ্খলা সামলাতে হিমশিম খেতে হল পুলিশকে। দর্শকদের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। লিওনেল মেসির দলের ফুটবলারকে কাছ থেকে দেখতে মঞ্চে উঠে পড়েন এক ভক্তও। যদিও বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে জেতানো মার্টিনেজের কাছে পৌঁছতে পারেননি তিনি।
আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০-২৫ মিনিট পরে মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছান মার্টিনেজ। তার অনেক আগে থেকেই ভিড় জমেছিল সেখানে। মার্টিনেজ মঞ্চে ওঠার পরে তার ছবি তোলার জন্য এগোতে থাকেন দর্শকেরা। তাতেই ব্যারিকেড ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ২০ মিনিট পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামলায়।
প্রথমেই ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা মার্টিনেজকে সংবর্ধনা জানান। ইস্টবেঙ্গলের জার্সি পরেন মার্টিনেজ। মুখে বলেন, ‘‘জয় ইস্টবেঙ্গল।’’ পরে মোহনবাগান কর্তারাও তাকে সংবর্ধনা দেন। সেখানে উদ্যোক্তাদের একটি ভুল চোখে পড়ে। ইস্টবেঙ্গল জার্সির লোগোতে ‘এসসি’ ও মোহনবাগান জার্সির লোগোতে ‘এটিকে’ লেখা ছিল। শুধু জার্সিই নয়, পরে যখন মঞ্চের পিছনে পর্দায় দুই প্রধানের নাম ফুটে ওঠে সেখানেও ভুল লোগো ছিল।
এরপর মঞ্চে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। অলোক মুখোপাধ্যায়, সন্দীপ নন্দী, হেমন্ত ডোরার মতো প্রাক্তন ফুটবলারেরা মার্টিনেজের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মঞ্চে উঠে পড়েন। অনেকের সঙ্গে স্ত্রী-সন্তানেরাও ছিলেন। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বারবার তাদের নামতে অনুরোধ করা হলেও তারা সেটা শোনেননি। মঞ্চের সামনে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ব্যারিকেড টপকে অনেকে ঢুকে পড়তে থাকেন। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে বেরিয়ে যান মার্টিনেজ।
বিশৃঙ্খলার জন্য উদ্যোক্তাদেরই দায়ী করেছেন সেখানে থাকা পুলিশকর্মীরা। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত অন্য কর্তারা বিশৃঙ্খলার কথা মানতে চাননি।
তাদের দাবি, পুলিশ পরিস্থিতি ভালভাবে সামলেছে। এই গোটা ঘটনায় অবশ্য মার্টিনেজকে খুব একটা বিরক্ত লাগেনি। যদিও অনুষ্ঠানের বেশির ভাগ সময় মঞ্চে অনেক লোকের মাঝে ঢাকাই পড়ে ছিলেন তিনি। তাকে দেখতেই পাওয়া যাচ্ছিল না।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা