বিএনপি সরকারের যাত্রা ও মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক সংকট: শুধুই কি কাকতালীয়?
বিখ্যাত মার্কিন লেখক স্টিফেন কিং বলেছিলেন, ‘কাকতালীয় ঘটনা হলো সেই সব সুতো, যা দিয়ে ভাগ্য তার অদৃশ্য জাল বুনে চলে।’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ‘অদৃশ্য জালের’ এক রহস্যময় ও অমীমাংসিত সমীকরণ বারবার ফিরে আসে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। তারপর অনেক দোলাচাল অতিক্রম করে অবশেষে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয় বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই বিশ্বের অন্য প্রান্তে অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলে ওঠে যুদ্ধের দাবানল। অনেকেই এই দুটি ঘটনাকে স্বাধীন ঘটনা বলতে পারে, তবে ইতিহাসের দিকে তাকালে ভিন্ন এক চিত্র ফুটে ওঠে।
এই সমাপতনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এমন একটি মিল প্রথম দেখা গিয়েছিল ১৯৯১ সালে। সে বছর গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। প্রায় একই সময় বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় সামরিক সংঘাত : উপসাগরীয় যুদ্ধ । ১৯৯০ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন কুয়েত দখল করলে তার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং জ্বালানি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। বাংলাদেশও এই প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না; আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করেছিল। ফলে ১৯৯১ সালের এই ঘটনাপ্রবাহও অনেক বিশ্লেষকের কাছে একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন রেখে যায়- বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার এই সময়গত মিল কি নিছক কাকতালীয়, নাকি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন?
একইভাবে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুকাল পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহুজাতিক বাহিনী ইরাক আক্রমণ করেছিল। ঠিক দুই যুগ পর, ২০২৬ সালে বিএনপির নতুন করে ক্ষমতায় আসার মধুচন্দ্রিমাকাল শেষ হওয়ার পূর্বেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জ্বলছে ইরান ও পশ্চিমা যৌথ বাহিনীর সংঘাতের লেলিহান শিখা। প্রশ্ন উঠেছে- বিএনপি ক্ষমতায় এলেই কেন মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলে? এটি কি কেবলই ভাগ্যের পরিহাস, নাকি দক্ষিণ এশিয়ার এই ভূ-খণ্ডে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক শতরঞ্জ খেলার কোনো অদৃশ্য চাল?
পুরনো চেনা সংকটের চক্রাকার আবর্তন
১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই উপসাগরীয় যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি করে। জ্বালানি আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব সরাসরি পরিলক্ষিত হয়। সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে, যার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ধাক্কা খায়। সদ্য ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এটি ছিল এক কঠিন বাস্তবতা- একদিকে যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, অন্যদিকে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ। ঠিক এক দশক পর একই চক্র মোকাবেলা করতে হয় খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারকে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ২০০৩ সালে অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম শুরু করার পর, ২০০১-এ ক্ষমতায় আসা বিএনপির জোট সরকার পরে অগ্নিপরীক্ষায়। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের সময় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ধাক্কায় ৪০–৪৫ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সেই সময়ে বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে এটি ছিল এক বিশাল আঘাত।
তেলের বাড়তি দামের ফলে পরিবহন ও কৃষি সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ শতাংশের উপরে উঠে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে প্রায় ৭.৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর রিজার্ভের উন্নতি হলেও ২০০৩ সালের জ্বালানি সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যাহত করেছিল, যা এই খাতে সরকারকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। একই সময়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে ‘মৌলবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিত্রিত করার যে প্রচেষ্টা, তা সামাল দিতেও সরকারকে বিপুল শক্তি ব্যয় করতে হয়েছিল। সেই সময়কার ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল অর্থনীতিতেই নয়, বরং সরকারের কূটনৈতিক ম্যান্ডেট বাস্তবায়নেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিএনপিকে তাদের কূটনীতিতে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব রক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলার মতো চিকন সূতায় হাঁটতে হয়েছিল।
আইএমএফ-এর কঠিন শর্ত ও রিজার্ভের ফাঁদ
১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের ফলে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় তখন - প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ২০০৩ সালেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের ফলে দেশের তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সরকারের কূটনৈতিক নীতি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখন ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার আবারও ক্ষমতায় আসার পর, সেই পুরনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন এক জটিল বাস্তবতা যুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফ এর ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের কঠিন শর্তের মধ্যে আবদ্ধ। আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী নীট রিজার্ভ একটি নির্দিষ্ট সীমায় রাখতে হবে এবং ভর্তুকি কমাতে হবে । কিন্তু ইরান ও মার্কিন যৌথ বাহিনী সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে এই শর্ত পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। তেলের দাম বাড়ানোয় জনরোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এবং রিজার্ভ কমে গেলে আমদানির ঋণপত্র খোলা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ সরকারের জন্য কঠিন হতে পারে। যদিও বাংলাদেশ এখনও ঋণের ফাঁদে পড়েনি, তবে ডলারের উচ্চমূল্য, ফ্যাসিস্ট আমলের মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম—এই তিনটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করতে পারে ।
দিল্লি ফ্যাক্টর : ভূরাজনৈতিক খেলার নতুন মোড়
বর্তমানে বাস্তবতায় স্পর্শকাতর বিষয় হলো বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সম্পর্ক। গত দেড় দশকে দিল্লির সঙ্গে বাংলাদেশের যে কৌশলগত সমীকরণ ছিল, ২০২৪-এর পটপরিবর্তনে তাতে বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। ভারত এখন একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, অন্যদিকে বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রের প্রস্থানে কিছুটা ‘কূটনৈতিক আড়ষ্টতা’য় ভুগছে। যদি ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হয় এবং বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়ে, তবে দিল্লি এই সুযোগে নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি, সীমান্ত ইস্যু এবং অপরাধী প্রত্যর্পণ যখন অমীমাংসিত, তখন এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নবগঠিত সরকারকে দিল্লির সঙ্গে এক অসম কূটনৈতিক দরকষাকষিতে ঠেলে দিতে পারে। ভূরাজনৈতিক এই ‘খেলায়’ দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক ২০২৬ সালের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনআকাঙ্ক্ষার অগ্নিপরীক্ষা
২০২৬ সালে বিএনপির ক্ষমতায় আরোহন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং দেড় যুগ পর জনরায়ের প্রতিফলন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এক আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের ম্যান্ডেট নিয়ে জনগণ এই সরকারকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গঠিত এই সরকারের কাছে মানুষ স্থিতিশীলতা, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান এবং ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল সংস্কার চায়। কিন্তু এমন এক ভঙ্গুর অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়া মানেই হলো মুদ্রাস্ফীতির লাগাম আরও ঢিলে হয়ে যাওয়া। নবগঠিত সরকারের জন্য এটি কঠিন বাস্তবতা- একদিকে অভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ আর অন্যদিকে বিশ্ববাজারের অগ্নিমূল্য। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে জনআকাঙ্ক্ষা জনরোষে রূপ নিতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও আসন্ন চ্যালেঞ্জ
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে এর প্রভাবে অনেক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। ইতিহাসের শিক্ষা বলে, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি অনেক দেশে ‘রেজিম চেইঞ্জ’ বা অনিচ্ছাকৃত ক্ষমতা পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। এছাড়া সদ্য গঠিত সরকারগুলোর ইমেজ ক্ষুন্ন করবে। এরইপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশে নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে। যদি যুদ্ধের প্রভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায় এবং রিজার্ভ কমে যায়, তবে সেই অর্থনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষগুলো নানা ষড়যন্ত্র শুরু করে দিতে পারে।
সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিলে আমার কাছে মনে হয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লাগা—এটি কেবল কাকতালীয় নয়, বরং ভূরাজনীতির শতরঞ্জ খেলায় বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ১৯৯১ সালের বিএনপি এবং ২০০৩ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার কোনোভাবে সেই ঝাপটা সামলে উঠলেও ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট অনেক কঠিন ও জটিল। ব্রিটিশ রোমান্টিক কবি শেলি লিখেছিলেন, ‘If Winter comes, can Spring be far behind?’—অর্থাৎ প্রতিটি বড় পতনের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ঘুরে দাঁড়ানোর বীজ। ১৯৯১ এবং ২০০৩ সালের যুদ্ধতাড়িত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পরও বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। যেমন- ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের প্রভাব বিএনপি সরকারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রণোদনা, রেমিট্যান্স চ্যানেল শক্তিশালীকরণ, মুদ্রানীতি ও রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণ- পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার যুদ্ধের ধাক্কা সামাল দিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছিল ।
২০০৩ সালে যুদ্ধের প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার আশংকা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ২০০৩ সালের রিজার্ভ ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০০৪ সালে ১.৮৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ওই সময় বিএনপি সরকারের নেওয়া ভাসমান মুদ্রা বিনিময় হার চালু করা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর মতো নীতিগুলো অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছিল।
অতএব, ইতিহাসের শিক্ষা বলছে, সংকট যেমন হঠাৎ আসে, তেমনি সঠিক নীতি ও কৌশলে তা মোকাবিলাও সম্ভব। ১৯৯১ এবং ২০০৩ এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিএনপি সরকার পুরোপুরি সফল না হলেও ভাল করেছিল । ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সংকট মোকাবেলায় অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে ২০২৬ সালের বিএনপি সরকার নিতে পারে সাফল্যের ‘সঞ্জীবনী সুধা’, যা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে ।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক