রুটি, পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার
দেশে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রুটি, পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে ক্ষতিকর পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। খাদ্যে এসব বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ, ক্যান্সার, জিনগত রোগ ও মিউটেশন, ডায়রিয়া, বমিভাব ও পেটের পীড়া তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দৈনিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে ক্ষতিকর এসব দ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করতে। এ নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাউরুটি ফোলাতে, কৃত্রিম রং ও বিভিন্ন আকৃতি দিতে ট্রান্সফ্যাট ও মিষ্টিজাতীয় রাসায়নিক সোডিয়াম সাইক্রোমেট নামের উপাদান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডিনও ব্যবহার করা হচ্ছে। বেকারি শিল্পের লোকজনের কাছে এটি ‘ব্রেড এনহ্যান্সার’ নামে পরিচিত।
এগুলো ব্যবহারের বিকল্প থাকলেও তাতে খরচ বেড়ে যায় বলে বেকারিতে অনেকে এই রাসায়নিকটি ব্যবহার করেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের উদ্যোগে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পাউরুটিতে অনুমোদিত মাত্রার অনেক বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার করা হচ্ছে।
গবেষকদল চারটি জেলা থেকে ২১টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউট (বিএসটিআই) কেজিপ্রতি পাউরুটিতে পাঁচ মিলিগ্রাম মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ৬৭ শতাংশ পাউরুটির নমুনায় তার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। পাউরুটি ফোলাতে ও নানারকম আকৃতি দিতে এই উপাদানটি ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক আবদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দেশের সব জায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এরপর ব্যবহার বন্ধ না হলে আমরা অভিযান শুরু করবো।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভারতের রুটি, পাউরুটিতে এই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার পর এসব রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ভারতের খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি