০৮ জুলাই ২০২১, ১৭:৫৮

চিকিৎসক পিটিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হলেন যুবলীগ সভাপতি

যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক মনি  © ফাইল ছবি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মাহবুবুল হক মনিকে (৩৫) দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার (০৮ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশে মাহবুবুল হক মনিকে যুবলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এর আগে, গত মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে মাহবুবুল হকসহ ৮ থেকে ১০ জন মিলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. এ এইচ এম সালেকিন কক্ষে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করেন ও বিভিন্ন হুমকি দেন। এরপর তার দলবল নিয়ে ওই চিকিৎসককে মারধর করেন।

পরে ওই রাতে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এ এইচ এম সালেকিন বাদী হয়ে মাহবুবুল হক মনিসহ অন্যদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই দিন রাতে মাহবুবুল হক মনিকে এবং পরদিন (০৭ জুলাই) জাহিদুল ইসলাম জুয়েল(২৭), রানা দে(২৬), কামরুজ্জামান জামান (৩৫) এবং রাকিবুল ইসলাম শরিফকে (২৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।

মুক্তাগাছা থানায় দায়েরকৃত মামলার বরাত দিয়ে জানা যায়, মারধরের শিকার ডা. এ এইচ এম সালেকিন মামুন গত মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) ইমারজেন্সিতে কর্মরত ছিলেন। এমতাবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে হাসপাতালের হটলাইনে ফোন দিয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল হক মনি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তার বৃদ্ধ মায়ের করোনা পরীক্ষার জন্য বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে জানতে চান। তখন ডা. সালেকিন জানান, যে বাসায় গিয়ে নমুনা নেয়া আপাতত বন্ধ ও তাকে তার মাকে হাসপাতালে নিয়েএসে নমুনা দেয়ার পরামর্শ দেন।

এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ২টার দিকে মাহবুবুল হক মনি ও ৮-১০ জন মিলে হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের রুমে ঢুকে তাকে(চিকিৎসক) অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করেন ও বিভিন্ন হুমকি দেন। পাশাপাশি সবাই মিলে চিকিৎসককে মারধর করেন। এ সময় হাসপাতালের স্টাফরা তাদের বিরত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।