০৫ এপ্রিল ২০২১, ০৮:২০

লঞ্চ নেই, রাতেই বাসায় ফিরেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা

লঞ্চ না পেয়ে ফের রাজধানীর নিজের বাসায় ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা  © টিডিসি ফটো

বাংলাদেশের একমাত্র নদী বন্দর সদরঘাটে লঞ্চের উপচে পড়া ভীড়ে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে আবার রাজধানীতে ফিরে গেছেন অসংখ্য যাত্রী। রাত ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও লঞ্চ পাননি তারা। সোমবার মধ্যরাতে সদরঘাট, ভিক্টোরিয়া পার্ক এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এ পাওয়া গেছে। 

লঞ্চ না পেয়ে রাজধানীতে ফিরতে থাকা এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লকডাউনে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জ্যাম কাটিয়ে শ্যামলী থেকে সদরঘাট এসেছি। এখানে এসে অনেক চেষ্টা করেও কোন লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন বাধ্য হয়েই আবার শ্যামলীতে (বাসায়) ফিরে যেতে হচ্ছে।

মো. সাইফুল ইসলাম তার পরিবার নিয়ে ছুটে এসেছেন সদরঘাটে। নিজ গন্তব্য বরিশালে যাওয়ার জন্য। কিন্তু লঞ্চঘাটে প্রায় ৩ ঘণ্টা যাবৎ চেষ্টা করেও লঞ্চের কেবিন, সিট ও ডেকে কোথাও জায়গা পাননি তিনি। সাইফুল ইসলাম বলেন , আমি আমার পরিবার নিয়ে গতবার লকডাউনে ঢাকা আটকেছিলাম। স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি এবার বাসায় ফিরে যাচ্ছি। এসব মুহূর্তে আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের কষ্ট কে বুঝবে?

রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী যাত্রী বলেন, আমি তিন সন্তান নিয়ে অনেক কষ্ট করে সদরঘাটে এসেছিলাম। পথের মাঝে ঝড়-বৃষ্টির বাধায় পড়তে হয়েছে। এসে দেখি লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ।পরে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষায় থাকলেও লঞ্চে উঠতে পারিনি। এখন আবার কষ্ট করে কুড়িল বিশ্বরোডে ফিরে যাচ্ছি।

এর আগে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষেরা ভিড় করতে থাকেন। এর মাঝে রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশের দক্ষিনাঞ্চলগামী সব ধরনের নৌযান বন্ধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ-র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপ-পরিচালক এহতেশামুল হক পারভেজ বলেন, আমরা তো আমাদের ডিউটি শেষে বাসায় চলে আসছি। হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে এমন অবস্থা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমাদের উপস্থিত ট্রাফিক বিভাগের লোকজন ভালো বলতে পারবে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের পুলিশ ইনচার্জ মো. পাবেল মিয়া বলেন, যাত্রীদের চাপে আমাদের নাকাল অবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আমরা মাইকিং করেছি। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সুন্দরবন-১০ লঞ্চকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেছি। এদিকে ঝড় বৃষ্টিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়তে দেইনি। অনেক যাত্রী লঞ্চ না পেয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।