দুই উপদেষ্টাকে পদত্যাগের আহ্বান জানালেন নুর
গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার (১ মার্চ) বিজয়নগরের আল রাজি কমপ্লেক্সে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
নুরুল হক নুর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের চাহিদা তৈরি হলেও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে তা সফল হয়নি। তার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট বলয় কেন্দ্রিক সরকার গঠিত হয়েছে, যার ফলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে গিয়ে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ৩ ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে একজন ইতোমধ্যে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, আমরা তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করি, তবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছাত্রনেতারা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অযাচিত হস্তক্ষেপে জনগণের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছেন। সেজন্য সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অন্য দুই ছাত্র উপদেষ্টাসহ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী সকল ছাত্রদের পদত্যাগ করা উচিত।’
নুর আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশের জন্ম নেওয়ার চাহিদা ছিল, তার বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, ‘যদি পুরনো পথেই হাঁটা হয়, তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হবে, কারণ আন্দোলন কেন্দ্রিক ছাত্রনেতৃবৃন্দের তদবির, নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’
নুরুল হক নুর পরবর্তী সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও একক সংগঠন বা নেতার দ্বারা সংগঠিত হয়নি, এটি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল ছিল।’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী চেতনার বয়ানের মতো বিভ্রান্তিমূলক ন্যারেটিভে না পরিণত করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন, শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ফারুক হাসান, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, ফাতিমা তাসনীম, জসিম উদ্দিন আকাশ, মাহফুজুর রহমান খান প্রমুখ।