২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৩৩

স্কুলছাত্রের শহীদ মিনার ভাঙার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

  © সংগৃহীত

একজন স্কুলছাত্র শহীদ মিনার ভাঙছে — এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। তবে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার। 

রিউমর স্ক্যানার জানায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার ভাঙচুরের ভাইরাল ভিডিওটি কোনো বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়। বিদ্যালয়টিতে নতুন করে বড় একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করায় প্রধান শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে পুরাতন ছোট শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ভিডিওটির একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে Sabbir3_90 নামক একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আলোচিত ঘটনাটির আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়।

ওই শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি পর্যবেক্ষণ করে গত শুক্রবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) পোস্টকৃত একটি ভিডিওতে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে ব্যানারসহ শিক্ষার্থীদের স্লোগানের একটি দৃশ্য পাওয়া যায়। ওই ব্যানারে  ‘টিকারী বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে ওই শিক্ষার্থী লেখেন, পাশে নতুন শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে তাই পুরোনো শহীদ মিনার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।’

পরবর্তীতে স্কুলের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করে গত ১৭ জানুয়ারিতে ‘এমডি মিন্টু বিশ্বাস’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই বিদ্যালয়ে ধারণকৃত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে ভেঙে ফেলা শহীদ মিনারের পাশেই নতুন ও আগেরটির চেয়ে বড় আরেকটি শহীদ মিনার দেখা যায়।

উল্লেখ্য, কিছু পোস্ট ও কমেন্টে আলোচিত শহীদ মিনারটি একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে ভাঙা হয়েছে দাবি করা হয়। তবে ওই বিদ্যালয়ের নতুন শহীদ মিনারের সামনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের চিত্রে নতুন শহীদ মিনারের পাশে পুরোনো শহীদ মিনারটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পুরোনো শহীদ মিনারটি ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেই ভাঙা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রিউমর স্ক্যানার টিম যোগাযোগ করে আলোচিত টিকারী বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নওশের আলীর সাথে। তিনি জানান, শহীদ মিনার ভাঙার ঘটনাটি মাসখানেক আগের। ২০২৩ সালে নতুন করে বড় একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সমস্যা হতো পুরনো ছোট শহীদ মিনারটির কারণে। তাই ছোট পুরনো শহীদ মিনারটি সরিয়ে ফেলতে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তিনি শহীদ মিনারটি সরিয়ে ফেলার অনুমতি দিয়েছেন।