২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২১:৫৯

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর দর্শনার্থী উপযোগী করার আহ্বান

ভাষা শহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর  © সংগৃহীত

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ আবদুস সালাম। তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২০০৮ সালে ফেনীতে প্রতিষ্ঠা করা হয় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া সারাবছরই স্মৃতি জাদুঘরটি যেন নিষ্প্রাণ হয়ে থাকে। তাই ভাষা শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘরটি আধুনিক ও দর্শনার্থী উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছে ফেনীবাসী।

জানা যায়, ভাষা শহীদ আবদুস সালামের গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে, যা বর্তমানে সালাম নগর নামে পরিচিত। গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় বছরের অন্য সময়গুলোতে এখানে তেমন কেউ আসেন না। তবে ফেব্রুয়ারি মাস এলে সালাম নগর ও শহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘরে কোলাহল বেড়ে যায়।

আরো পড়ুন: মহানবীকে ‘কটাক্ষ’ করার অভিযোগ, এবার ওএসডি কবি গালিব

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ভাষা শহীদ আবদুস সালামের বাড়ির অদূরে ‘স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যার অভ্যন্তরে একটি পাঠাগার রয়েছে। পাঠাগারটিতে ১১টি আলমারি, তিন হাজারের বেশি বই ও টেবিল-চেয়ার থাকলেও গত বছরের আগস্টে ফেনীর স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পানিতে তলিয়ে গিয়ে বই, তাকসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যায়। 

পর্যাপ্ত বুক শেলফের অভাবে অনেক বই টেবিলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। জাদুঘর ও পাঠাগারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে একজন গ্রন্থাগারিক ও একজন তত্ত্বাবধায়ক থাকলেও প্রচার-প্রচারণার অভাব ও স্থানটির প্রত্যন্ত অবস্থানের কারণে তেমন মানুষের আনাগোনা দেখা যায় না।  

এ ছাড়াও সালামের নামে তার গ্রামে একটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ফেনী শহরে এ ভাষা শহীদের নামে একটি স্টেডিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টার থাকলেও তার স্মৃতি সংরক্ষণে দৃশ্যমান কিছু নেই বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।  

শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাই সুবেদার (অব.) আবদুল করিম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস এলেই সবাই আমাদের খোঁজখবর নেন। কিন্তু বছরজুড়ে সালামনগর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকে। বন্যায় পাঠাগারের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এ স্মৃতি জাদুঘরটি আধুনিক ও দর্শনার্থী উপযোগী করে তুলা দরকার।                 

ফেনী জেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বন্যায় সালাম নগরের পাঠাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঠাগারের আলমারি ও তাক নষ্ট হয়ে গেছে, যা পুনরায় কেনা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় একটি প্রকল্প দিয়েছেন, এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা ৫-৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সালাম নগরকে ঘিরে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তার নামে একটি পার্ক নির্মাণের পাশাপাশি একটি তোরণ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়াও ফেনী শহরে তার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জনসাধারণের কোনো দাবি থাকে, সেটিকেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।

প্রসঙ্গত, শহীদ সালাম ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহাম্মদ ফাজেল মিয়া ও মাতার নাম দৌলতের নেছা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং প্রায় দেড় মাস আহত থাকার পর ৭ এপ্রিল ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু বরণ করেন।