২০ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৪

শুক্রবারের সহিংসতায় নিহত ৬৬

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার সারা দেশে সহিংসতায় অন্তত ৬৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, পেশাজীবিও রয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে সরকার। সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম দফার কারফিউ শেষ হয়েছে৷ দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার কারফিউ চলবে। 

কোটা সংস্কারের দাবিতে গতকাল কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়ায় আন্দোলনকারীরা। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ি, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাজীপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তর। হামলা থেকে বাদ যায়নি কারাগারও।  অনেক কয়েদি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েন জেল সুপার।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৩২, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৪, ফরাজী হাসপাতালে ২, মিরপুরের অলোক কেয়ার হাসপাতালে ৩ এবং বেটার লাইফ হাসপাতেল একজনের মরদেহ এসেছে৷ রাজধানীর বাইরে, রংপুরে ৪, ময়মনসিংহ, বগুড়া, সাভার, সিলেট ও গাজীপুরে মোট নয়জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। অন্যান্য মরদেহ কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে সে তথ্য জানা যায়নি।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়েছেন, যাত্রবাড়ির আরিফ, বাড্ডার রাকিব, পল্টনের পাভেল, বাড্ডার বনি শেখ ও সোহাগ, কাফরুলের রাব্বি, যাত্রবাড়ির জিহাদ, কদমতলীর মোবারক, ভাটারার ওমর, নিউমার্কেটের ওয়াদুদ ও বাড্ডার মারুফ হোসেন।