ঢাকাসহ ৮ বিভাগে বৃষ্টির আভাস
দেশের বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা এখন ৪০ এর ঘরে। তবে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (১৮ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের দেওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া/ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ মৌলভীবাজার, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর ও ফেনী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের চলমান তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া রবিবার (১৯ মে) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি মাসের শেষের দিকেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। আবহাওয়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মে মাসের স্মৃতি মোটেও সুখের নয়। ২০০৯ সালের ২৫ মে সুন্দরবন তছনছ করেছিল আইলা। ২০২০ সালের ২০ মে আছড়ে পড়েছিল আম্ফান। এবার মে মাসের শেষে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, যা মে মাসের শেষের দিকে উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের আপডেট বলছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে অন্তত দুটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে, যা মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ২০ মে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে পারে ঘূর্ণাবর্তটি। এরপর উত্তর দিকে এগোবে সেটি। ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াবে। ২৪ মে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে সেটি। ২৫ মে সন্ধ্যার পর সেটি বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গের ভূভাগে প্রবেশ করতে পারে। তবে সেই ঝড়ের গতিবেগ কতটা থাকবে, বা কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।