রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হয়েছে জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ জিয়া হল মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ম্যুরাল রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বুধবার (০৩ এপ্রিল) গভীর রাতে ম্যুরালটি ভেঙে ফেলা হয় বলে মিলনায়তনটির তদারকির দায়িত্বে থাকা আরিফুর রহমান জানান।
এ ম্যুরাল ভাঙার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানকে দুষছেন বিএনপির নেতারা। যদিও এই অভিযোগকে পাত্তা দিচ্ছেন না ওই সংসদ সদস্য।
ম্যুরালটি ভাঙা হয়েছে খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার প্রধানসহ কয়েকজন নেতা।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সম্মানে ১৯৮১ সালে এই মিলনায়তনটিকে শহীদ জিয়া হল হিসেবে নামকরণ করা হয়। তার ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। মিলনায়তনটি জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকায় প্রথমে আমরা ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা বলেছেন ম্যুরাল ভাঙার বিষয়ে তাদের কোন নির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জিয়া হল ভেঙে আরেকটি ভবন করার প্রস্তাব দিয়ে সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন শামীম ওসমান। আজকের এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এটা সরকারি দলের নীলনকশার মাধ্যমে শহীদ জিয়ার এ ম্যুরাল কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান বলেন, আমরা দেখেছি সংসদে দাঁড়িয়ে শামীম ওসমান জিয়া হল ভাঙার কথা বলেছেন। রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ম্যুরাল ভেঙে প্রমাণ করেছেন তিনি আসলে প্রতিহিংসাপরায়ণ একজন রাজনীতিবিদ। তিনি শান্তিপূর্ণ কাজ করতে পারেন না। নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে এই কাজটি করেছেন তিনি।
ম্যুরাল ভাঙার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় ম্যুরালটি স্থাপন করার দাবি জানান বিএনপি নেতারা। অন্যথায় তারা আন্দোলনের দিকে যাবেন বলে জানান সাখাওয়াত।
দিনের বেলায় জিয়া হলের চাবি থাকে ফল বিক্রেতা আরিফুর রহমানের কাছে। তার বাবা লুৎফর রহমান এই হলের কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতমাস আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনিই তদারকি করছেন।