অস্ত্র নিয়ে ফোনালাপ ফাঁস, আর মাংস বিক্রি করবেন না খলিল
গত ছয় মাস ধরে বেশ আলোচনায় মাংস ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান অরফে খলিল। কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করে আলোচনায় ছিল সে। লোকসানের কথা বলে দাম বাড়ানো এবং ভালো মাংস না দেওয়া ছাড়াও ক্রেতাদের নানা অভিযোগে তাকে নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে অনেক।
রাজধানী শাহজাহানপুরের এই মাংস ব্যবসায়ী পুরো রমজান মাসে ৫৯৫ টাকা দরে মাংস বিক্রির ঘোষণা দিলেও মাত্র ১০ রমজানে যেতে না যেতেই বেঁকে বসেন। এক লাফে দাম বাড়িয়ে দেন ১০০ টাকা। তবে সমালোচনার মুখে গত রোববার ঘোষণা দেন আগের দামেই অর্থাৎ ৫৯৫ টাকা কেজি দরেই গরুর মাংস বিক্রি করবেন।
এসব আলোচনার মধ্যে এবার নতুন আলোচনায় খলিল। তার কাছে যে আর্মস-গান আছে তা এতটাই দামি যে বাংলাদেশে মাত্র তিনজনের কাছে এমন অস্ত্র আছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া কেউ তার সাথে মোকাবেলা করে টিকতে পারবেনা বলেও হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তার অঢেল অর্থের কথাও জানান। এক মাংস ব্যবসায়ীর সঙ্গে ফোনালাপে এসব কথা বলেন খলিল, এমন একটি অডিও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে খলিল জানান, একজনকে ভয় দেখাতেই তিনি এসব বলেছেন। কোনো মাংস ব্যবসায়ী, সরকার ও মাংস ব্যবসায়ী সমিতির কেউ তার পাশে নেই তাই আগামী ২০ রমজানের পর থেকে তিনি আর মাংস ব্যবসা করবেন না বলেও জানান।
সম্প্রতি রাজধানীর আলমগীর নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর সঙ্গে টেলিফোনে খলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশে একটা মাংস ব্যবসায়ী যেটা হলো খলিল। আমার যে আর্মস-গান, বাংলাদেশের তিনটা ব্যক্তির কাছে আছে। যেটা সবচেয়ে দামি আর্মস। একে-৪৭ মন্ত্রী-এমপির কাছেও নেই। আমার দোকানের একটা স্টাফ দুই কোটি টাকার মালিক। মাংস ব্যবসায়ীরা অনেক শক্তিশালী। তারা অনেক ট্যাকার মালিক। আমার যদি কিছু না থাকত ওরা যে কত দিক দিয়া আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করতাছে। কত দোষ খোঁজার চেষ্টা করতাছে, পাইতাছে না। এরা জানে, আমার সামনে এলে একটাও বাইচ্চা থাকতে পারবে না। আপনাদের গর্ব আমি একটা মাংস ব্যবসায়ী খলিল।’
টেলিফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির নাম ধরে তিনি বলেন, ‘আমার স্টাফ অনেক। আমি ১৫ দিন পর পর আমার ফার্নিচার দোকানের ছাদে কাচ্চি, তেহারি– যা মন চায় তাগোরে খাওয়াই। আল্লাহ দিছে খা। আমার দোকানের পোলারা খাইবো, ওগেরো দিয়াইতো আমি কামাইছি। আমার গোস্ত দোকানে একটা লোক আছে ২৫ বছর ধইরা। ৮টা লোক আছে ২০ বছর ধইরা। আর বাদ বাকিগুলো ১২-১৩ বছর ধইরা আছে। একটাও আমারে ছাইড়া যায় না। রাইত শেষে যহন ট্যাহাটা দেহি ভাই, তহন মনডা ভইরা যায়।’
তার কাছে থাকা অস্ত্রের বিষয়ে খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ২০২১ সালে অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছি। আমার কাছে যে অস্ত্র আছে তা খুবই সাধারণ। একে-৪৭ আমার কাছে নেই।