১৯ মার্চ ২০২৪, ১০:১৫

দেশে ৩৪ লাখ শিশুর জীবনযাপন রাস্তায়

দেশে ৩৪ লাখ শিশুর জীবনযাপন রাস্তায়  © সংগৃহীত

এক গবেষণায় উঠে এসেছে সারাদেশে ৩৪ লাখেরও বেশি পথশিশু বাবা–মায়ের যত্ন ছাড়াই জীবনযাপন করছে। দারিদ্র্য, অপুষ্টি, রোগ, নিরক্ষরতা ও সহিংসতাসহ নানা বঞ্চনার শিকার তারা। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা যুক্ত হয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। তাদের শোচনীয় এই পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে ‘বাংলাদেশে রাস্তার পরিস্থিতিতে শিশুরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ ফেইজ-২’ প্রকল্পের অধীনে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি। 

গতকাল সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় এই গবেষণাপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় শিশু রয়েছে। আমাদের দেশে যে সব শিশু রাস্তায় রয়েছে তারা নানা সহিংসতায় বেড়ে উঠছে। 

তিনি আরও বলেন, এসব শিশুর জীবন উন্নয়নে শুধু সরকার নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংগঠন-সংস্থাকে। প্রতিবেদনে উঠে আসা এ বাস্তব চিত্র দেশের পথশিশুদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিমালা প্রণয়ন ও কর্মসূচি গ্রহণে সহায়ক হবে।

গবেষণাপত্রে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, পারিবারিক ভাঙনের মূল কারণগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। পথশিশুদের শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। সরকার থেকে তহবিল বৃদ্ধি করা। 

পথশিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, বিত্তশালীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে শিশু আইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি। অতিথি ছিলেন সুইডেন দূতাবাসের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ও ডেপুটি হেড অব মিশন মারিয়া স্ট্রিডসম্যান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কর্মকর্তা এনরিকো লরেঞ্জো।