১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২২

ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকেও ভালোবাসুন

আজ সুন্দরবন দিবস  © সংগৃহীত

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তবে আজ একই দিনে অনেকগুলো দিবস পালিত হচ্ছে। আজ কেউ করছে বসন্তের উদযাপন, কেউ করছে ভালবাসার উদযাপন এবং হিন্দু সম্প্রদায় করছেন সরস্বতী পূজা উদযাপন। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ,পহেলা ফাল্গুন আর সরস্বতী পূজা মিলে এ উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। অনেকে জানেনই না আজ সুন্দরবনও দিবস। 

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে পালিত হচ্ছে সুন্দরবন দিবস।

এদিকে বসন্ত মানেই পূর্ণতা, বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। পাতা ঝরা দিন মনে করিয়ে দিচ্ছে, বসন্ত এসে গেছে। এসেছে বাঙালির ঋতুরাজ। বড় এ দুই উৎসব যেন একে অপরের হাত ধরাধরি করে আসছে ধরণীতে। বছর ঘুরে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও, ভালোবাসা কিন্তু প্রতিদিনের। জীবনের গতি নির্ধারণ করে ভালোবাসা। মানুষ বেঁচে থাকে ভালোবাসায়।

সারা বছর ধরে বসন্ত প্রেমিকরা অপেক্ষায় থাকেন কবে আসবে পহেলা ফাল্গুন। উৎসব প্রিয় বাঙালি এদিনে নব আনন্দে মেতে ওঠে। অনেক দুঃখ - কষ্ট, স্বজনহারানো পেরিয়ে সত্যি সত্যিই আজ বসন্ত। ঋতুরাজের আগমনী দিনে আজ আনন্দের হাট বসবে রাজধানীসহ সারাদেশের সচেতন অগ্রসর তরুণ-তরুণীদের মনে। তাদের যেন আজ কোথাও আর হারিয়ে যেতে নেই মানা।

বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে, খোঁপায় গাঁদা, পলাশসহ নানা রঙের ফুল গুঁজে তরুণীরা বেরিয়ে পড়বেন শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, টিএসসি, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসব অমর একুশে বইমেলা পর্যন্ত সর্বত্র থাকবে এ কোলাহল। বসন্ত মানেই যেন নতুন কলেবর, তাইতো সর্বত্র রঙিন হবে মানুষের ঢলে। 

এ উচ্ছ্বাস শুধু তরুণ-তরুণী নয়, সবার মনেই রঙ ছড়ায় কম-বেশি। প্রতি বছর এসব এলাকায় জন সাধারণের উপস্থিতি অন্তত সেটিই বলে দিচ্ছে। ছেলেরা লাল-হলুদ, বাসন্তী রঙ‍া পাঞ্জাবি আর ফতুয়ায় নতুন করে নিজেদের সাজিয়ে নেমে আসবে পথে। প্রেমের ঋতু বসন্তে প্রেমিক মন আনমনে গেয়ে উঠবে- শোন গো দখিনা হাওয়া/প্রেম করেছি আমি...।

অন্যদিকে, আজ একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বী তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সরস্বতী পূজা উদযাপন করছেন। এর মধ্যে জগন্নাথ হলের সরস্বতী পূজা সবচেয়ে বড়। জগন্নাথ হল মাঠে সকাল থেকেই পূজা অর্চনা ও অঞ্জলির মধ্য দিয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপন শুরু হয়। 

বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এটির রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমিরও খ্যাতি। প্রাণ ও প্রকৃতির এক লীলাভূমি এই বনে রয়েছে পাঁচ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী।

প্রাকৃতিক অক্সিজেন ভান্ডার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন বুক দিয়ে উপকূলবাসীকে রক্ষা করলেও নানা কারনে নিজে ভাল নেই। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুন্দরবন রক্ষা করে, সুন্দরবনের পর্যটনে বিশেষ গুরুত্ত দিলে একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়বে অপরদিকে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান বলছেন সংশ্লিষ্টরা।