২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৫৯

পেনশন স্কিমে নিবন্ধন কমে যাওয়ায় প্রচারে গুরুত্ব প্রশাসনের

গত ১৭ আগস্ট  প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা নামে চার স্কিম উদ্বোধন হয়।   © সংগৃহীত

গত ১৭ আগস্ট  প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা নামে চার স্কিম উদ্বোধনের পর প্রথম মাসে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন। অথচ গতকাল সোমবার পর্যন্ত এক মাস ছয় দিনে নিবন্ধন করেছেন মাত্র এক হাজার ৯৭৬ জন। এতে গতকাল পর্যন্ত ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

পেনশন স্কিমে হঠাৎ নিবন্ধন কমে যাওয়ায় প্রচারে তৎপর মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এই কর্মসূচিতে নাগরিকদের আগ্রহ ও নিবন্ধন কমে যাওয়ায় তাদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সভা ও মাইকিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

পেনশন কর্তৃপক্ষ এখন প্রচারের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। জেলা-উপজেলায় নিবন্ধনের সার্বিক চিত্র সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ‘মনিটরিং ড্যাশবোর্ড’ চালু করা হবে।

নিবন্ধন কমে যাওয়ার বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই কর্মসূচিতে তিনটি কারণে নিবন্ধন কম হচ্ছে। এক. বেশির ভাগ মানুষ মূল্যস্ফীতির চাপে বাড়তি বিনিয়োগ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। দুই. জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করাতে পারেনি। প্রচারে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।

তিন. অনেক মানুষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন, এ টাকা কিভাবে,  কোথায় বিনিয়োগ করা হবে। বিনিয়োগের পর লাভ হবে কি না, এ নিয়ে তাঁরা সন্দেহে আছেন। মানুষ তাঁদের জমানো অর্থের আস্থা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, তবে সরকার যে টাকা ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করেছে, সেটা ভালো উদ্যোগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধন কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়াতে গত ১২ অক্টোবর মাঠ প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চিঠি দেয়। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ১৬ অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও ইউএনওদের নিয়ে মতবিনিময়সভা আয়োজন করে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কবিরুল ইয়াজদানী খান বলেন, নিবন্ধন সংখ্যা বাড়াতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা লাগবে।

দেশের সর্বস্তরের জনগণকে টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন স্কিম উদ্বোধন করেন।