ভাড়া বাসায় দুই বান্ধবীর রহস্যজনক মৃত্যু, অসুস্থ ৪
মাদারীপুরে কলেজ রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই বান্ধবীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও চারজন।
শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কলেজ রোড এলাকায় লুৎফর রহমান মোল্লা বাসার ৪ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাগরিকা (২০) শহরের উকিলপাড়া এলাকার কেএইচ শাকিল আহম্মেদের মেয়ে। অপর বান্ধবী পারুলের (২২) বাড়ি নাটোর জেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে হঠাৎ চিৎকার–চেঁচামেচি শুনে ওই ফ্ল্যাটে ছুটে যান বাসার কেয়ারটেকার হেলাল সরদার। সেখানে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন সাগরিকাকে। এ ছাড়া অসুস্থ অবস্থায় সেখানে ছিলেন সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন, সাগরিকার বান্ধবী পারুল আক্তারসহ পাঁচজন। তাঁদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পারুল আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
তারা জানান, ১ অক্টোবর সাগরিকা তাঁর মা ও মামাকে নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। গতকাল রাতে তাঁদের বাসায় আসেন অপরিচিত তিন থেকে চারজন নারী। পরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর অপরিচিত নারীদের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
নিহতদের পরিবারের বিস্বস্ত সূত্র জানায়, রাতে নেশাজাতীয় পানীয় খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বিষক্রিয়ায় সাগরিকা ও তার বান্ধবী পারুল মারা যায়।
সাগরিকার মামা বাবু বলেন, আমরা ভাগনি কোথা থেকে মদ নিয়ে এসে আমাকে খাওয়ার জন্য জোড়াজুড়ি করে। পরে বাধ্য হয়ে তার মন রক্ষায় আমিও মদ পান করি। পরে আমার আর কিছু মনে নেই। চোখ মেলে দেখি আমি হাসপাতালে। তারা অনেক মদ পান করেছে। পরে জানতে পারি অতিরিক্ত মদ পানের কারণে আমার ভাগনি আর ওর বান্ধবী মারা গেছে।
মদ্যপানকারী ডালিয়া আক্তার বলেন, আমার বান্ধবীর মেয়ে মাঝে মাঝেই মদ নিয়ে আসত। আমরা না খাইতে চাইলেও জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করত। আমি অল্প কিছু খেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। তারপরে কি হইছে আমি আর বলতে পারি না।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, গভীর রাতে আমাদের এখানে চার থেকে পাঁচজন নারীকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন আগেই মারা গেছেন। আর দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ময়নাতদন্তের পর বাকি বিষয়গুলো জানা যাবে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ঘটনাস্থল পরির্দশন করে বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।