ভাষা সৈনিক কয়েস উদ্দিন আর নেই
ভাষা সৈনিক ও শতবর্ষী গণসঙ্গীত শিল্পী কয়েস উদ্দিন সরকার আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার (২৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে জামালপুর শহরের বেলটিয়া পৌর এলাকার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জামালপুর পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, শনিবার সকাল ১০টায় শহরের ফুলতলায় নিজবাড়িতে কয়েস উদ্দিনের জানাযা শেষে বেলা ১১টায় তার লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য জামালপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।
মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য মরদেহ দানের ঘোষণা দেওয়ায় চিরকুমার এ ভাষা সৈনিকের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদন পর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
কয়েস উদ্দিন ভাষা আন্দোলনসহ প্রগতিশীল সব আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘কয়েস ভাই’ নামে পরিচিতি ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় বিশ্বাসী কয়েস উদ্দিন ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনও করেছেন। তিনি শোষণ, বঞ্চনা, অন্যায়-অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গান রচনা করেন। ভাষা আন্দোলনের ওপরে গান লিখে নিজেই গেয়ে বাঙালিদের উদ্বুদ্ধ করতেন। ২১ ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানিদের গুলিতে রফিক, বরকত, ছালাম শহীদ হলে সারাদেশে আন্দোলন বেগবান হয়। তখন তিনিও জামালপুরের আন্দোলনে ছিলেন।
আইয়ুববিরোধী গান রচনার জন্য কয়েস উদ্দিন আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ এর সময় জেল খাটেন।
১৯২৪ সালে জামালপুর শহরতলীর বেলটিয়া গ্রামের কৃষক মরহুম ছইম উদ্দিন সরকারের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন গর্বিত এ ভাষা সৈনিক। সংসারে অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়ায় বেশি এগোতে না পারলেও ছোটবেলা থেকেই কাজের ফাঁকে গান লেখা, সুর করা ও গান গাওয়া পছন্দ করতেন তিনি। সুযোগ পেলেই মানুষের সেবার এগিয়ে যেতেন। ঢাকা থেকে সারাদেশের মতো ভাষা আন্দোলনের ঢেউ আছঁড়ে পড়ে জামালপুরেও। ছাত্র-জনতা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে আসে।