১৪ জুলাই ২০২৩, ১৫:২১

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় দেশের সোয়া ৫ কোটির বেশি মানুষ

  © সংগৃহীত

বাংলাদেশের মানুষ তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছে। জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এ ধরণের মানুষের সংখ্যা ৫ কোটি ২৭ লাখ। এর মধ্যে এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় আছেন৷

জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার মধ্যে আছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)৷ ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড' শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১২ জুলাই প্রকাশিত হয়৷

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০১৬ সালের পর গত ছয় বছরে বাংলাদেশে তীব্র থেকে মাঝারি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ বেড়েছে।

তীব্র খাদ্যসংকটের বিষয়ে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, এটা এমন এক পরিস্থিতি যখন মানুষের খাবার ফুরিয়ে যায়, কোনো কোনো দিন অভুক্ত থাকে৷ মানুষের স্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে থাকে৷

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের চাকরি নিয়ে জাপান যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে বি-জেট

এদিকে মাঝারি ধরনের খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এটা এমন পরিস্থিতি, যখন মানুষের খাদ্য পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকে৷ বছরের কোনো কোনো সময় তাদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। অথবা খাবারের পরিমাণ ও মানের পরিবর্ত ঘটে৷ যেটা কম মূল্যের। অর্থ ও অন্য সম্পদের ঘাটতিতেই এমনটা ঘটে৷

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার কারণে ছোট থেকে বড় সকল বয়সী মানুষের পুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ পুষ্টির অভাবে দেশের ৩৯ লাখ শিশু খর্বকায়৷ এদের বয়স ৫ বছরের মধ্যে।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ২২ শতাংশ পরিবার বন্যা এবং ১৬ শতাংশ মানুষ নদীভাঙনের শিকার৷

আরও বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ৷ ফলে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, বেড়েছে খাবারের দাম৷ তাতে কোটি কোটি মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে৷