১৫ জুন ২০২৩, ১৬:১৩

দেশে স্থাপিত হচ্ছে বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দিনে উৎপাদন হবে ৪২.৫ মেগাওয়াট

বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র  © সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মত স্থাপিত হতে যাচ্ছে বর্জ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর মধ্য দিয়ে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাস করতে এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০ জুলাই আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম এই বর্জ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান কাজ উদ্বোধন করবেন।  

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইবরাহিম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে বর্জ বিদ্যুৎ নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করছে বলে জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ইনসিনারেশন ব্যবস্থা অনুসরণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট নির্মাণ করা হবে ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে।

প্রতিদিন ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে ৩০০০ টন মিক্সড বর্জ্য থেকে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ ইনসিনারেশন প্লান্টে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন স্পন্সর হিসেবে যুক্ত থাকবে। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৫ বছর পর্যন্ত কিনে নেবে। এ প্রকল্পে মোট ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের আদানির বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক আমদানি শুরু হলো

মো. তাজুল ইসলাম আরও জানান, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ডিএনসিসির দেওয়া ৩০ একর জায়গায় দৈনিক ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহ করা হবে। বিনামূল্যে বর্জ্য সরবরাহ করতে হবে। পিডিবি চুক্তি মূল্য অনুযায়ী উৎপাদিত ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনে নেবে।

মন্ত্রী জানান, এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পরিবেশের ওপর কোন বিরূপ প্রভাব পড়বে না।  ডিজেলের চাইতেও খরচ কম হবে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে। আশা রাখি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে উৎপাদনে যেতে পারবো। অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

টেকসই উন্নয়নের জন্য এ ধরনের প্রকল্পের বিকল্প নেই।  এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের বর্জ্য নিষ্পত্তি হবে। এর মাধ্যমে আমাদের অতি প্রয়োজনীয় শক্তিও উৎপাদিত হবে;  এটি আমাদের বিদ্যুৎ চাহিদা কিছুটা সংকুলান করবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ধারণা ও অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আরো বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

উৎপাদকদের ৩ হাজার টাকা জরিমানা করবে ডিএনসিসি
প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে পৌঁছে না দিলে উৎপাদকদের জরিমানা ৩ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারলেও ৩ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে তাদের। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, ডিএনসিসি তাদের থেকে এই জরিমানার টাকা পাবে। ডিএনসিসির সব এলাকা মিলে এখন প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো হবে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দাম কিছুটা বেশি হলেও ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ তা কিনে নেবে। পরিবেশবান্ধব হবে এই বিদ্যুৎ। এর দাম ইউনিট প্রতি পড়বে ২১ টাকার বেশি। কিছুদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও সেটা সামাল দেওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে। 

পরিবেশবাদীদের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কয়লার মাধ্যমে উৎপাদন তো বন্ধই আছে। এখন উনারা কী বলবে? পরিবেশবাদীদের উচিত আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া। কয়লার উৎপাদন বন্ধ রেখে দেখছি কী হয়। তারা বলতো কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সুন্দরবনসহ অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।