১৩ মে ২০২৩, ১২:১৪

সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ

নৌযান চলাচল বন্ধ  © ফাইল ফটো

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা ক্রমশই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আজ শনিবার দুপুর থেকেই দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করবে। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সারাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ মে) বিআইডব্লিউটিএ'র বরাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম খান এ তথ্য জানান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযান চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সারাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

শনিবার (১৩ মে) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ১৪ মে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার ও উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। শনিবার (১৩ মে) রাত থেকে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ এর অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় মোখা: ডুবে যেতে পারে সেন্টমার্টিন

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি থাকার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে। অতি প্রবল এ ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। আশংকা করা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে পারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রায় পুরোটা। 

এদিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার ঝুঁকি বিবেচনায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ সতর্কতা বিষয়ক সংস্থা গ্লোবাল ডিজাস্টার অ্যালার্ট অ্যান্ড কো–অর্ডিনেশন সিস্টেম (জিডিএসিএস)। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় কমিশনের একটি সহযোগিতামূলক ফ্রেমওয়ার্ক হচ্ছে জিডিএসিএস। সংস্থাটি বলছে, মোখার ঝুঁকিতে রয়েছে ২৮ লাখ মানুষ।