২১ এপ্রিল ২০২৩, ১৬:২৪

যেভাবে চাঁদ খুঁজে চাঁদ দেখা কমিটি

  © ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে হবে, তা জানা যাবে আজ শুক্রবার। যা চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। শাওয়াল মাস হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম মাস। শাওয়ালের প্রথম দিনটি ঈদুল ফিতর হিসেবে উদযাপিত হয়। বাংলাদেশে ঈদের তারিখ নির্ধারণে আজ শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ খুঁজতে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি নিয়ে সারা বছর তেমন কোনো আলোচনা থাকে না। কিন্তু ঈদুল ফিতরের আগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে এই কমিটি। এর কারণ ঈদুল ফিতর কবে হবে—তা নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। শুধু ঈদ নয়, হিজরি মাস গণনা করার জন্যও চাঁদ দেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আর এ কারণেই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে একটি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এই কমিটি প্রতি হিজরি মাসের ২৯ তারিখ সভা করে। আর চাঁদ দেখা না দেখার ওপর ভিত্তি করে ঘোষণা করা হয় পরবর্তী মাসের তারিখ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি একটি নীতিমালা অনুসরণ করে চাঁদ দেখে হিজরি বর্ষপঞ্জির বিভিন্ন মাসের তারিখ ঘোষণা করে। জেলা চাঁদ দেখা কমিটিগুলো স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিজ নিজ জেলায় চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। সে অনুযায়ী চাঁদ দেখার তথ্য ঘোষণা করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এ কাজে পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। দেশের ৪৩ জেলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে হালকা মেঘে চাঁদ ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। কোনো এক নির্দিষ্ট দিনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দুই জন কর্মকর্তা ইসলামী ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পল্টনের জাতীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণ করেন। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে এই পর্যবেক্ষণ করা হয়।

চাঁদ দেখা কমিটিতে যারা আছেন
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি। আর এই কমিটির সদস্য সচিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। এই কমিটিতে আছেন আরও ১৮ জন সদস্য। মূলত সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানরা পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিতে রয়েছেন— ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব।

চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় যেভাবে
ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিটির সদস্য কিংবা মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এর আগে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে অপটিক্যাল থিওডোলাইট যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বর্তমানে সেই যন্ত্র দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা চাঁদ দেখেন। আকাশে মেঘ না থাকলে এই যন্ত্র দিয়ে চাঁদ দেখে কমিটিকে অবহিত করা হয়। পরে কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়।

চাঁদ দেখা কমিটি সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আবহাওয়া অফিস ও মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) কাছে চাঁদের পূর্বাভাস থাকে। তবে ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সেটা প্রকাশ বা তার ওপর নির্ভর করা হয় না। ইসলামের বিধান অনুসরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদ দেখার খবর যাচাই করে কমিটির সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হলেও সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়। তবে দ্রুত চাঁদ দেখা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে সব জেলায় উন্নন প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।