০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৪৩

সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  © সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটসহ চলমান অস্থিরতায় সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবকিছুর দাম বেড়েছে। সবাইকে পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সবাইকে হিসাব করে চলার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি-১) প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রথম পাতালরেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে যাতে এই অবস্থা না হয়। আমাদের এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদী না থাকে। এখন পর্যন্ত সব কিছু ম্যানেজ করে যাচ্ছি, করে যাবো। তবে আপনাদেরই সাশ্রয়ী হতে হবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বকে নিজেদের টাকায় সেতু করে দেখিয়েছি। যতক্ষণ জনগণ সঙ্গে থাকবে কেউ কিছু করতে পারবে না। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার কাজ।

দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নির্বাচনি ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। এমনকি আগামী ১০০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনাও আমরা করে রেখেছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথা দিলে সেটা রাখে, আমরা সেই কথা রেখেছি। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, দেশের মানুষের উন্নতি হয়। সারাদেশে যোগাযোগের নেটওয়ার্ট গড়ে তুলেছে। জনগণের আস্থা-বিশ্বাস জয় করেই আমরা ভোট পাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, জনগণের সাহায্য সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আমরা মানুষকে কতটুকু দিতে পারি সেটাই আমাদের বিবেচ্য বিষয়। নিজেদের টাকায় সেতু করে আমরা বিশ্বকে দেখিয়েছি। যতক্ষণ জনগণ সঙ্গে থাকবে কেউ কিছু করতে পারবে না।

আরও পড়ুন: দেশের ৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, আরও বাড়তে পারে শীত

শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব না, সবথেকে বড় পরিচয় আমি জাতির জনকের কন্যা। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমার কাজ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পাতালরেলের কাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে বোরিং মেশিন দিয়ে গর্ত করে টানেল করা হবে। এখানে জনগণের চলাচলের কোনও সমস্যা হবে না। ভূপৃষ্ঠের ১০ মিটার নিচে কাজ হবে, ফলে ওপর থেকে বোঝা যাবে না যে মোটির নিচে কাজ চলছে। এই পাতাররেলের পূর্বাচল অংশ হবে উড়ালপথ। এছাড়া বিমানবন্দর রুটে ১২টি পাতাল রেল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। খননকাজের সময় মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার দিকে খেয়াল রাখা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কাজ হবে।