আজ বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ৮৫তম জন্মদিন
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের জন্মদিন আজ। ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের যবগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ছোটগল্পের এ বরপুত্র। তার বাবা মোহাম্মদ দোয়া বখশ ও মা জোহরা খাতুন।
জন্মের পর হাসান আজিজুল হকের ছেলেবেলা কেটেছে তাঁর নিজ গ্রামেই। ১৯৫৪ সালে যবগ্রাম মহারাণী কাশিশ্বরী ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯৫৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন খুলনার দৌলতপুর ব্রজলাল কলেজ থেকে। এসময় প্রগতিশীল রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন হাসান আজিজুল হক। রাজনীতি করার কারণে পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়তে হয় তাঁকে।
উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। ১৯৫৮ সালে এ কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
হাসান আজিজুল হক উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী রচনা লিখে দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন। গল্পগ্রন্থ সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য কিংবা উপন্যাস আগুনপাখি তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়।
উপন্যাস, ছোটগল্প ও নাটক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী রচনা লিখে হাসান আজিজুল হক দেশের সাহিত্যাঙ্গনে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন। হাসান আজিজুল হকের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, পাতালে হাসপাতালে, নামহীন গোত্রহীন, চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি, মা মেয়ের সংসার, বিধবাদের কথা ও অন্যান্য গল্প, সক্রেটিস, বৃত্তায়-ন, শিউলি, আগুন-পাখি, ফিরে যাই ফিরে আসি, উঁকি দিয়ে দিগন্ত প্রভৃতি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের মধ্যে রয়েছে একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা, লাল ঘোড়া আমি, ফুটবল থেকে সাবধান ইত্যাদি। সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে গোবিন্দচন্দ্র দেব রচনাবলী, একুশে ফেব্রুয়ারি গল্প সংকলন, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
কথাসাহিত্যে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা। এর মধ্যে রয়েছে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭), বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭০), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কাজী মাহবুব উল্লাহ ও বেগম জেবুন্নিসা পুরস্কার।
আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোনই সর্বনাশ করছে স্কুল শিক্ষার্থীদের
তার প্রকাশিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, বৃত্তায়ন, শিউলি ও আগুন পাখি। ছোটগল্প গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, সমুদ্রের স্বপ্ন: শীতের অরণ্য, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, জীবন ঘষে আগুন, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে ইত্যাদি।
এছাড়া ১৯৯৯ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন হাসান আজিজুল হক। ‘আগুন-পাখি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার। ২০১২ সালে তিনি ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি পান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর রাত নয়টায় রাজশাহী শহরে নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়।