২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭:৪২

দেশে বেড়েছে গরু-ছাগলের সংখ্যা: জরিপ

দেশে বেড়েছে গরু-ছাগলের সংখ্যা  © ফাইল ছবি

দেশে বেড়েছে গরু, ছাগল, মহিষ ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা। এ তথ্য  জানানো হয়েছে জমির মালিকানা, জমির ব্যবহার, ফসল, কৃষিতে কর্মসংস্থান, কৃষি যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও প্রাণিসম্পদের তথ্য জরিপে। এ জরিপ করা হয়েছে বিগত ২০১৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। কৃষি শুমারি-২০১৯ শীর্ষক এ জরিপ প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।

শুমারিতে প্রকাশিত ফলাফলে জানানো হয়েছে, দেশে গত এক বছরে কৃষকের গরুর সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ লাখ। সারাদেশের পল্লি ও শহর এলাকায় ২০১৮ সালে গরুর ছিল দুই কোটি ৫৬ লাখ, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় দুই কোটি ৯৪ লাখে। একইভাবে ২০১৮ সালে ছাগলের সংখ্যা ছিল এক কোটি ৬৩ লাখ, যা ২০১৯ সালে এক কোটি ৯৫ লাখ হয়েছে। 

প্রকাশিত কৃষি শুমারিতে দেখা গেছে, একই সময়ে আগের বছরগুলোর তুলনায় হাঁস-মুরগির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি। ২০১৮ সালে হাঁস-মুরগির সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৭৮ লাখ, যা ২০১৯ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৯৪ লাখে। দেশে বিগত এক বছরে মহিষের সংখ্যা ৯৫ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৬ টিতে। ২০১৯ সালের শুমারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খানার সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ। এতে কৃষি খানা এক কোটি ৬৮ লাখ, কৃষি মজুর খানা ৯২ হাজার। এছাড়া মৎস্যজীবী খানার সংখ্যা ১২ লাখ বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

দেশে সাধারণ খানার সংখ্যা যে হারে বেড়েছে কৃষি খানা সে হারে বাড়েনি জানিয়ে এ জরিপের প্রকল্প পরিচালক আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ এক কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার একর। এর মধ্যে অস্থায়ী ফসলের জমির পরিমাণ এক কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার একর। এছাড়া ১৯ লাখ ৭০ হাজার একর স্থায়ী ফসলের জমি রয়েছে দেশে। কৃষি শুমারি ২০১৯ অনুযায়ী মাছ চাসের মোট জমির পরিমাণ ১২ লাখ ১২ হাজার ১০৭ একর। ব্যবহার ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে পুকুরে মাছ চাষের জমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৬ লাখ ৮১ হাজার একর।

তবে আলোচ্য সময়ে মোট আবাদি জমি কমেছে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। আর একই সময়ে অস্থায়ী ফসলের জমি কমেছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। এর মধ্যে আউশ চাষের জমি ২৪ লাখ একর। আমন ও বোরো চাষের জমি যথাক্রমে এক কোটি ১৯ লাখ ও এক কোটি ১০ লাখ একর। এছাড়া দেশে গম, পাট, আলু, ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ যথাক্রমে ৮ লাখ, ১৬ লাখ, ১১ লাখ ও ১০ লাখ একর।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন। পরিসংখ্যা ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. মতিয়ার রহমান অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।