২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৫৪

ত্রাণ সহায়তা নিয়ে বানভাসিদের পাশে ইয়ুথনেট

চরের নাম দিয়েছে ইয়ুথনেট  © সংগৃহীত

কুড়িগ্রামকে দেশের ভেতরের ছিটমহল বলেন অনেকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্রতা ঘিরে রেখেছে এ জেলার মানুষদের। সম্প্রতি দুটি ভয়ঙ্কর বন্যার কবলে পড়ে কুড়িগ্রামের দুর্গম চরে বসবসকারী দুর্গতরা। এই দুর্গতিদের মাঝে ত্রাণ ও র্নবাসন সহায়তা দিয়েছে জলবায়ু সুবিচার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস।

গণমানুষের দাবিতে ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝখানে জেগে ওঠা যাত্রাপুর ইউনিয়নে নয়া চরটির প্রেক্ষিতে এর নাম 'চর ইয়ুথনেট' ঘোষনা দেয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, চরাঞ্চলে যারা বসবাস করে তাদের প্রতিদিন সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। বন্যা, শীত ,খরা- সবসময় প্রকৃতির সাথে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। 

রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি চরে আশ্রয় নেয়া দুইশত পরিবারের মাঝে ত্রান সহায়তা বিতরণ করেছেন ইয়ুথনেট। ত্রান সামগ্রী হিসেবে শীত নিবারণের কম্বল, স্যানিটারি ল্যাট্টিন, টিউবওয়েল, ঢেউটিন, ভিটে মাটি উঁচুকরণে নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন ও বিভিন্ন সবজি বীজের চারা দেয়া হয়। চরবাসী শাহিনা বেগম বলেন, মাইন্সের বাড়িত কাম (কাজ) করছিনুং। চরোত চলাচল করা খুবে কষ্ট হচিল। সেলাই মেশিন পায়া খুব উপকার হইল। মোড় দুইকন্যা বেটির লেকাপড়া চলবার (লেখাপড়ার খরচ) পাইম।

আরও পড়ুন: ভারী বস্তুর সঙ্গে আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু: ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন

ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন,ইয়ুথ নেট এর ইভেন্ট ও প্রোগ্রাম সমন্বয়ক এস জেড অপু, নেটওয়ার্ক ডেভলপম্যান্ট সমন্বয়ক জিমরান মোহাম্মদ সায়েক, গাইবান্ধা জেলা টিমের সমন্বয়ক রোভার মারুফ হাসান, যাত্রাপুরের ইউপি সদস্য রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন, যুবনেতা আলহাজ্ব ওমর ফারুক প্রমুখ।

ইয়ুথনেট’র নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে উপকূল, হাওড়, সমুদ্র ও পাহাড়ী অঞ্চলে কাজ করে দেখেছি সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতির থেকে বেশি কষ্টে আছেন কুড়িগ্রামের চরবাসী মানুষ। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগের মাধ্যমে চরবাসী প্রান্তিক মানুষের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।  

ইয়ুথনেট সংগঠনটির কুড়িগ্রাম জেলা টিমের সমন্বয়ক সুজন মোহন্ত বলেন, আমাদের কুড়িগ্রামে ৪২০ টি চর-দ্বীপচরের পাশাপাশি নতুন আরেকটি চর আমাদের সংগঠনের নামে হল। আমাদের এখন আরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা আরও বেশি করে কাজ করব।