বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক শিশু পদকের জন্য মনোনীত রংপুরের আফ্রিদা
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের-২০২২ এর জন্য মনোনীত হয়েছে রংপুরের শিশুসংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবী আফিদ্রা জাহিন। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংগঠন কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭৫ জন শিশুকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক শিশুদের পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগামী ১৪ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসে পুরস্কারটি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ২০০৫ সালে রোমে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক শীর্ষ সম্মেলন থেকে এই পুরস্কার চালু করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে অসাধারণ অবদানের জন্য প্রতি বছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
শিশুসংগঠক আফিদ্রা জাহিন চিকিৎসক দম্পতি মাহমুদুল বারী ও মিরাতুন জেসমিনের মেয়ে। বাড়ি রংপুর মহানগরীর ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি শ্যামলী লেন এলাকায়। আফ্রিদা জাহিন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান সে, তার একটি ছোট ভাই রয়েছে। আফ্রিদা জাহিন সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সাংবাদিকতাও করছে।
কিডস রাইটসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, আফ্রিদা জাহিন একজন খুব সংবেদনশীল তরুণী। সে মানুষের কাছাকাছি থাকতে চায় এবং তাদের সমর্থন করতে চায়। তার লক্ষ্য হল দরিদ্র মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মৌলিক এবং ন্যূনতম চাহিদাগুলো পূরণ করার উপায় খুঁজে বের করা। এই কারণে নিজস্ব সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। তার সংস্থার সঙ্গে সে পথশিশুদের শিক্ষা দেয় এবং তাদের শোষণ ও অপব্যবহার থেকে রক্ষা করে।
সুবিধাবঞ্চিত লোকদের কম্বল এবং খাবার সরবরাহ করেছে এবং কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে তাদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। আফ্রিদা জাহিন রমজান মাসে রিকশাচালকদের ইফতারও দিয়েছে এবং ঈদের সময় ভিক্ষুকদের কিছু খাবার ও মাস্ক দিয়েছে। ভবিষ্যতে তার লক্ষ্য বাংলাদেশের পথশিশুদের জন্য একটি এতিমখানা গড়ে তোলা।
আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠক আফ্রিদা জাহিন বলেন, আমি গত ফেব্রুয়ারি মাসে আবেদন করেছিলাম। যাচাই-বাছাই শেষে দরিদ্র শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সেবামূলক কার্যক্রম ক্যাটাগরিতে আমাকে মনোনীত করে কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন। মনোনীতদের নাম ও পরিচয়সহ বিস্তারিত কিডস রাইটস তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।
আফ্রিদা জাহিন বলে, ‘স্প্রেড স্মাইলস’ নামে আমার একটি ছোট্ট সংগঠন রয়েছে। প্রতিমাসে এ সংগঠন থেকে এতিমখানা অথবা বৃদ্ধাশ্রমে একবেলা খাবার দেওয়া হয়। এছাড়াও আমরা বছরে দুই ঈদে অসহায় ও দরিদ্র শিশুসহ সাধারণ মানুষকে ঈদের বাজার দিয়ে থাকি। মাহে রমজানে দিনমজুরদের এক টাকায় ইফতার করোনা ছাড়াও শীতকালে বিভিন্ন এতিমখানায় শিশুদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে।
সামজিক কার্যক্রমরে জন্য এ বছর সূর্যের হাসি যুব সংঘ থেকে আফ্রিদা জাহিনকে ইউথ অ্যাওয়ার্ড-২০২২ প্রদান করা হয়। এছাড়াও গত ১৮ অক্টোবর জাতীয় শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের রংপুর বিভাগের একজন শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে একটি ল্যাপটপ পুরস্কার পায় আফ্রিদা জাহিন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে এই পুরস্কার জিতেছিল সাদাত রহমান। পুরস্কারটির মোট অর্থমূল্য এক লাখ ইউরো।