আন্দোলনে রংপুর নর্দান মেডিকেলের নেপালী শিক্ষার্থীরা
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রংপুরের বেসরকারি নর্দান মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন নেপালের ২১ শিক্ষার্থী। অনুমোদন স্থগিত হয়ে গেলেও তা গোপন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করে প্রতিষ্ঠানটি। আর তাতেই চার বছর পর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন খেয়েছে হোঁচট।
বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায় ও নেপালের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও সমাধান পাচ্ছেন না নেপালি শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে গেল কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে নেমেছেন। শুধু নেপালি শিক্ষার্থীরা নন, পাশাপাশি দেশেরও ৯ শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০০১ সালে এই মেডিকেল কলেজ স্থাপন হয়। সে বছরই শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। নিয়মিত তিন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও শর্ত পূরণ না করায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অনেক দেন দরবার করে ২০০৯ সালে আবারও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পেলেও ২০১৫ সালে কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। ফের কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। ততক্ষণে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে যায়।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামে। অব্যাহত আন্দোলন শুরু হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে যায় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে।
নেপালি শিক্ষার্থী রামেজ জেটাল বলেন, আমরা কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনে ভর্তি হয়েছি। এখন এমবিবিএস পাশ করার এক বছর হয়ে গেল, ইন্টার্ন করতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে যারা অন্য মেডিকেলে পড়েছে তাদের ইন্টার্ন শেষ হবার পথে।
পূজা চৌধুরী নামে নেপালি আরেক শিক্ষার্থী জানান, আমাদের কাছে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট আছে। ওটা আমরা পাশ করছি। পরে ইন্টার্ন করার জন্য বিএমডিসি যে সার্টিফিকেট দেয় সে সার্টিফিকেট তো আমাদের নেই। আমাদের তো এক বছর লস হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খলিলুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মালিক পক্ষের, আমি চাকরি করি। তবুও আমরা কাগজপত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়- অধিদপ্তরে যাচ্ছি সমাধানের জন্য।