১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:১৫

যৌন হয়রানী ও প্রতারণার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন 

  © টিডিসি ফটো

ফরিদপুর শহরের বেসরকারী মেডিকেল টেকনোলজি কলেজ ‘কমিউনিটি ম্যাটস’-এর শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও যৌন হয়রানীর অভিযোগ এনে আন্দোলনে নেমেছে। রবিবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে তারা। পরে যৌন হয়রানী ও প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মোট ৪ বছরের কোর্স আর ৩ বছর একাডেমিক ও ১ বছর ইন্টার্নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তির পূর্বে বিএমডিসি’র অনুমোদন রয়েছে উল্লেখ করলেও এখন তারা বিএমডিসির সনদ দিতে পারছেন না। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন এই কলেজের বিএমডিসির কোন অনুমোদনই নেই।

একাধিক ছাত্রীর অভিযোগ, শিক্ষকরা তাদের পরীক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেয়া, ভাইবাতে ফেল করিয়ে দেয়াসহ নানা অযুহাতে তাদের যৌন হয়রানী করা হয়। অনেক ছাত্রীকে ফরিদপুরের বাইরে ট্যুরে যাওয়ারও অফার দেয়া হয়। অনেক মেয়েই এসব কারণে কলেজ ছেড়েছে বলে জানায় তারা।

কলেজের ছাত্রী রিয়া বলেন, ভর্তি হওয়ার আগে তাদের বলা হয়েছিল বিএমডিসি থেকে সনদ দেয়া হবে এখন তা দেয়া হচ্ছে না। কলেজের প্রতিটি মেয়েই কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।

নাহিদ হাসান নামে এক ছাত্র বলেন, ভাইবা পরীক্ষায় কোন টাকা নেয়ার কথা না থাকলেও ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়, আর ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেয়া হয়। রাজী না হলে ভাইবাতে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষকে তারা কখনোই পান না। যে কোন ধরনের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে পরিচালকদের সাথে কথা বলতে হয়।

কলেজের অন্যতম পরিচালক মো. মহসিন যৌন হয়রানী বিষয়টি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, বিএমডিসি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। আমরা স্টেট মেডিকেল বোর্ড অব ফ্যাকাল্টি থেকে সনদ দিয়ে থাকি। বিএমডিসি’র অনুমোদন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা আবেদন করেছি, এই মাসেই তাদের পরিদর্শনের আসার কথা। আশা করছি বিএমডিসির অনুমোদনও পেয়ে যাবো।