সবাইকে কাঁদিয়ে বাবার সঙ্গে চিরনিদ্রায় দুই মেয়ে
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক সাইফুজ্জামান মিন্টু এবং দুই মেয়েকে দাফন করা হয়েছে। গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
রোববার সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩নং কালচোঁ ইউনিয়নের পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথমে বাবা সাইফুজ্জামান ও পরে দুই মেয়ে আশরা আনাম খান (১৩) ও তাসমিন জামান খানের (১১) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক। এ ঘটনায় ফেসবুক গ্রুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে তাঁর সহপাঠি ও পরিচিতরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
জানাজার আগে মিন্টু ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ, উপজেলা আওয়ামলী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, নিহতের ভাই অধ্যাপক মোস্তফা কামাল খান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া, ফেনী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক নুরে আলম, মিন্টুর সহপাঠী ও সহকর্মীবৃন্দ। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় জানাজায় ইমামতি করেন হাফেজ আবদুল মান্নান ও মাওলানা আবদুল খালেক।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান মিন্টু পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বাইপাস মোড়ে তাদের বহন করা প্রাইভেটকারটি আসলে ঢাকা থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাইফুজ্জামানের দুই মেয়ে। আহত অবস্থায় সাইফুজ্জামানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত সাইফুজ্জামান মিন্টুর স্ত্রী কনিকা আক্তার (৪০) ও ছেলে মন্টু (১০) চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতের ভাই অধ্যাপক মোস্তফা কামাল খান বলেন, আমাদের বাবা কৃষক ছিলেন। আমরা ৬ ভাই ৫ বোন। মিন্টু ভাই-বোনদের মাঝে দশম। আর কোনো পরিবারের সদস্যদের যেন এভাবে যেন প্রাণ হারাতে না হয়।