করোনার ওষুধ বাংলাদেশই প্রথম তৈরি করল, কাল-পরশু পাওয়া যাবে
করোনা ভাইরাসের ওষুধ রেমডিসিভির আগামী দুই তিন দিন তথা কাল-পরশুর মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শনিবার রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ২শ’ শয্যার কোভিড ১৯ হাসপাতাল উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তিনি। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই ওষুধ উৎপাদন করছে।
এর আগে দেশের এসকে-এফ কোম্পানি জানিয়েছিল, আগামী ১৮ মে’র মধ্যে এই ওষুধ বাজারে আনছে তারা। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) সূত্রও এমনটা জানিয়েছিল।
আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধটি পরীক্ষামূলক জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলো ২৯ এপ্রিল। সেই ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এই ওষুধ তৈরি করে ফেলার দাবি করেছিল। উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ। এখন চলছে সেই ওষুধ সরবরাহের প্রস্তুতি। এসকেএফ-এর অন্যতম কর্তা সিমিন হোসেন জানান, “করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের এই কঠিন সময়ে আমরা দেশবাসীকে এই সুখবর দিতে চাই যে, বিশ্বে করোনার একমাত্র কার্যকর ওষুধ বলে স্বীকৃত জেনেরিক রেমডেসিভির উৎপাদনের সব ধাপ আমরা সম্পন্ন করেছি।” খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
পত্রিকাটি বলছে, প্রাথমিক পরীক্ষায় করোনাভাইরাস চিকিৎসায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস-এর এই ওষুধটিকে গত সপ্তাহেই ব্যবহারের অনুমতি দেয় আমেরিকা। জাপানও গত ৭ মে ওষুধটি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের উপর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে এই ওষুধ সে দেশে কবে তৈরি হবে, তা জানায়নি জাপান। তার আগেই এসকেএফ এই ওষুধ তৈরি করে তা সরবরাহের স্তরে চলে এল।
সংস্থার দাবি, এসকেএফই বিশ্বে প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, যারা জেনেরিক রেমডেসিভির তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এসকেএফ এই ওষুধটির বাণিজ্যিক নাম দিয়েছে রেমিভির। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিধি অনুযায়ী ওষুধের নমুনা ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে জমা দেওয়া হবে। ছাড়পত্র-সহ বাজারে আনার অনুমতি পাওয়ার পর ওষুধটি বিতরণ শুরু করবে তারা।
সিমিন আরও জানান, “সরকার গত মার্চ মাসে ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পরই আমাদের বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। যেহেতু এটি একটি শিরায় দেওয়া ইনজেকশন, সে কারণে এর উৎপাদনে সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। দুই মাস ধরে আমাদের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এত কম সময়ে এটা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ওষুধের মূল উপাদান সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি করে পর্যাপ্ত কাঁচামাল পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছি আমরা।”
এর আগে ডিজিডিএ পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, আমাদের দেশে ছয় প্রতিষ্ঠানকে রেমডেসিভির তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। একটি হচ্ছে এসকে-এফ ফার্মাসিটিকলস এবং আরেকটি বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউকলস। এর মধ্যে এসকে-এফ অনেকটা এগিয়ে গেছে, তাদের ওষুধ আগামী ১৮ মের মধ্যে বাজারজাত করবে। তিনি আরও বলেন, যেসব কোম্পানি রেমডেসিভির উৎপাদন করবে তারা এর গুণগতমান নিশ্চিত করবে। কোম্পানিগুলো ওষুধের স্যাম্পল আমাদের কাছে জমা দেবে। আমরা সেই স্যাম্পল আমাদের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে মান যাচাই করবো।
জানা গেছে, দেশের মোট ৬টি কোম্পানি ওষুধটি তৈরিতে অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো বিকন, এসকে-এফ, বেক্সিমকো, হেলথকেয়ার ও ইনসেপটা। এর মধ্যে এসকে-এফ কোম্পানি আগামী ১৮ মে’র ওষুধটি বাজারে আনবে।
আরেকটি সূত্র জানায়, চলতি মাসের মধ্যেই দেশের দুই প্রস্তুতকারক কোম্পানি আর জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাকি চারটি কোম্পানি তাদের উৎপাদিত রেমডেসিভির বাজারে আনতে যাচ্ছে।