১৫ মে ২০২০, ১৯:৪২

করোনায় দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয় না মানুষ, নতুন গবেষণা

  © ফাইল ফটো

একবার আক্রান্ত হওয়ার পর মানুষ দ্বিতীয়বার আর করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয় না। তবে যারা ফের করোনা পজিটিভ হয়েছেন, সেগুলো পরীক্ষার ত্রুটি বা ব্যর্থতা। করোনা নিয়ে গবেষণা শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা এই অনুসিদ্ধান্তে এসেছেন।

স্কাই নিউজ জানিয়েছে, দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের গবেষকদের মতে কোভিড-১৯ ভাইরাস মানুষের শরীরে একবার নিষ্ক্রিয় হলে দ্বিতীয়বার সক্রিয় হওয়া অসম্ভব।

সিডিসি আরও বলেছে, এইচআইভি ও চিকেনফক্সের মতো ভাইরাসগুলো মানবকোষের নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে তার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। এরপর বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। পরে অকস্মাৎ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস নিউক্লিয়াস ভেদ করতে পারে না।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। সেখানে গড়ে ২.৩ শতাংশ হারে মারা গেছেন ২৪৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা রোগে আক্রান্তদের মৃত্যু হার ৩.৪ শতাংশ। সে তুলনায় কোরিয়ায় মৃতের হার কম।

তবে দেশটিতে ২৭৭ জন রোগী সুস্থ হওয়ার পর ফের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চীন ও জাপানেও এমন রোগী দেখা গেছে। এ কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ভাইরাসটি হয়তো দ্রুত পরিবর্তিত হয় বলে সুস্থ হলে ফের আক্রান্ত হতে পারে।

এ আশঙ্কার কারণে বিভিন্ন দেশে ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ প্রণয়নের কথা ভাবছে। ঠিক তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এ নিয়ে সতর্ক করা হয়। যেসব মানুষ সুস্থ হয়েছেন ও যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়েছে, তারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবেন না ধরে নিয়ে কাজে যোগদান বা ভ্রমণের প্রক্রিয়াকে ইমিউনিটি পাসপোর্ট বলা হচ্ছিল।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কোভিড-১৯ আক্রান্ত যারা সুস্থ হয়েছেন ও শরীরে অ্যান্টিবডি আছে, তারা দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হবেন না, এর নিশ্চয়তা নেই। এ বিষয়ে এমন কোনো গবেষণাও হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ভাইরাসের জেনেটিক বিশ্লেষণে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ধরা পড়েনি, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম আড়ালে রয়ে যেতে সক্ষম। তারা বলছেন, দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়ছেন বলে যারা শনাক্ত হয়েছে, তাদের পরীক্ষার ফল ভুল ছিল।

তাদের মতে, ওই রোগীরা সুস্থ হলেও শরীরে মৃত ভাইরাসের নমুনা থাকে। কিন্তু যে উপায়ে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে সক্রিয় ও মৃত ভাইরাসের পার্থক্য করা যায়নি। এ কারণে তাদের ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

সিডিসি কমিটির প্রধান ডা. ওহ মিয়ং-ডন বলেন, ‘এর অর্থ, এই ভাইরাস দীর্ঘকালস্থায়ী বা পুনরাবৃত্তি ঘটাতে সক্ষম নয়।’ তবে ভবিষ্যতে হয়তো এই ভাইরাস ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। এভাবে একসময় মানুষকে পরিবর্তিত ভাইরাস আক্রমণ করলে, শরীরের অ্যান্টিবডি তাকে চিনবে না।

এর ফলে তখন মানুষ আক্রান্ত হবে। কিন্তু এই মিউটেশনের হার এত দ্রুত নয়, যা সুস্থ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ ফের আক্রান্ত হবে।