১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৬

কোটি টাকা উঠলো শামীম আহমেদের হাতে

বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী

প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো মহান বিজয় দিবসের রাতে। কোটি টাকা উঠলো শামীম আহমেদের হাতে। বাংলাদেশ জিজ্ঞাসার সঞ্চালক খালিদ মুহিউদ্দীনের শেষ প্রশ্ন-পর্ব বাজার রাউন্ডের সমাপনীর সাথে সাথে নরসিংদীর ছেলে শামীমের স্কোর দাঁড়ায় ১০৫। পিরোজপুরের মহসিনের স্কোর ছিল ১০০, ঝিনাইদহের বেনজিরের স্কোর ৯০ এবং বরিশালের প্রীতীশের স্কোর ছিল ৬০।

বিজয় নিশ্চিত হলে মঞ্চে ছুটে আসেন শামীমের মা এবং বাবা। পুত্রকে জড়িয়ে ধরে আবেগ কেঁদে ফেলেন শামীমের মা। অন্যদিকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ঝিনাইদহের বেনজির আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েন। মহসিন এবং প্রীতীশ স্বাভাবিকই ছিলেন। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে রবিবার রাত ১০টায় প্রচারিত হয় বাংলাদেশ জিজ্ঞাসার চূড়ান্ত পর্ব।

বিজয়ীর হাতে কোটি টাকার চেক তুলে দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলম সারওয়ার এবং ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও এবং এডিটর-ইন-চিফ এম শামসুর রহমান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, “দেশ সম্পর্কে, দেশের অর্জন সম্পর্কে জানানোর এ আয়োজনকে আমি অভিনন্দন জানাই। এটি একবার হয়েই যেন হারিয়ে না যায়, সামনেও অব্যাহত থাকে সেদিকে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। এ ধরণের আয়োজন বারবার হোক সে প্রত্যাশা করছি।”

সালমান এফ রহমান বলেন, “আমরা যখন এ অনুষ্ঠান সম্পর্কে চিন্তা করেছিলাম, যত বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারি, সে দিকে নজর দিয়েছিলাম। এটা যেন সারা বাংলাদেশেই হয়, সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি। আজকের এ ফাইনাল রাউন্ডে যে চারজন ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউই ঢাকার নন। এটা তারই প্রমাণ। চারজনকেই অভিনন্দন। এর আগে ৪০টি পর্বে যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদেরও অভিনন্দন।”

শামীম আহমেদ কোটি টাকা জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, স্বপ্ন পূরণে কোটি টাকা তাকে সহযোগিতা করবে। এতে প্রথম রানার আপ হয়েছেন পিরোজপুরের ছেলে মহসিন উদ্দিন। পুরস্কার হিসাবে তিনি অর্জন করেছেন ২৫ লাখ টাকা। পথ শিশু ও নারী শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন মহসিন। দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন ঝিনাইদহের ছেলে বেনজির আহমদ। তিনি নিজের জীবনের অর্জন-উপার্জন দিয়ে পাঠাগার সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যেতে চান।তৃতীয় রানার আপ প্রীতীশ চন্দ্র বিশ্বাস পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।

দেশের ৮০ হাজার প্রতিযোগী থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচিত করার পর তাঁদের নিয়ে গত ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’র টেলিভিশন সম্প্রচার পর্ব।

৬৪ জন থেকে ৮ জনকে নিয়ে ৭ ও ৮ ডিসেম্বর সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এখান থেকে ফাইনালের জন্য নির্বাচিত হন চারজন। কোটি টাকা জয়ের জন্য লড়েন সেই চার মেধাবী প্রীতীশ, শামীম, বেনজির ও মহসিন। ৪৭ বছরের বাংলাদেশের অর্জন, সাফল্য, ব্যর্থতা নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ‘বাংলাদেশ জিজ্ঞাসা’র পৃষ্ঠপোষকতা করছে আইএফআইসি ব্যাংক।