০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৩৮

বুয়েট উপাচার্যকে ফের অফিসে ঢুকিয়ে তালা দিল শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (উপাচার্য) অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবি সরকারের উচ্চমহলের কাছে পৌছে দিছেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবি শ্রীঘ্রেই পূরণ করারও আশ্বাস দেন।

কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কথায় আশ্বাস্ত হতে পারেননি। তারা আবার উপাচার্য কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকিয়ে গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট সহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে বুয়েটের উপাচার্য তার কার্যালয়ে মিটিং শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন তখন তাকে তালা খুলে দেওয়া হয় কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস উপাচার্যের উত্তরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় উপযোগী তার বাসভবনে ঢুকিয়ে দেয় এবং পুনরায় তালা মেরে দেয় বর্তমান অবস্থা উপাচার্য তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএইচডব্লিউ অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে অবরুদ্ধ আছেন।

শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত অবস্থায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি: মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে (২১) হত্যার প্রতিবাদে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলের আগে সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে আলোচনা করে নেয় তাঁরা।

‘আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই’-ব্যানারে মিছিলটি বুয়েটের হলগুলো ঘুরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের সুনির্দিষ্ট সাতটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।

সেগুলো হলো

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাঁকে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

গত রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মাঝ থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই রাতেই হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার আবরার হত্যার প্রতিবাদে দিনভরই উত্তপ্ত ছিল বুয়েট ক্যাম্পাস। গতকাল দুপুর থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাঁরা হলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা রোববার রাতের ফুটেজ দেখানোর এবং দোষী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।