০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৫

‘দেশবিরোধী’ চুক্তির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ (ভিডিও)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাসির দাবিতে এবং বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে ‘দেশ বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে শহীদ মিনার হতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এবং পরবর্তীতে বেলা তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি ফটকে (ডেইরি গেট, প্রান্তিক গেট) আবরার হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাসির দাবিতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন, ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী স্লোগান এবং বক্তৃতা করেন। এতে অবরোধ স্থল থেকে শুরু করে রাস্তার দুদিকে নবীনগর ও সাভার পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় তারা ‘গো ব্যাক ইন্ডিয়া’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘পানি, বন্ধর, নদীর দেশ, জবাব দেবে বাংলাদেশ’, ‘দেশ বিরোধী চুক্তি, মানি না, মানবো না’, ‘শহীদ আবরার দিচ্ছে ডাক, ভারতীয় আগ্রাসন নিপাত যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ভারতের সাথে সম্পাদিত চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করার কারনেই বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা।

মিছিল শেষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কোন রকম স্বার্থ ছাড়া দেশের পানি, গ্যাস, বন্দর ভারতকে দিয়ে দিয়েছে। এই একই কথা আবরার বলার কারণে সারারাত পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। আবরার যে কথা বলেছে সেটা শুধু তার কথা নয় বাংলাদেশের সকল মানুষের কথা। আমরা আবরার হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। আবরার হত্যাকাণ্ড কোন নির্দিষ্ট অংশের অংশগ্রহণে হয়নি আমরা মনে করি এটা রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। রাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা এবং ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্যেই আবরারকে হত্যা করা হয়েছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’।

বিক্ষোভে দেশ বিরোধী চুক্তি বাংলার জনগন প্রত্যাখান করেছেন দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন,‘ আজ সীমান্তে মানুষ হত্যা, সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, নদীর পানির অধিকার, গ্যাস রপ্তানিসহ সবকিছুই দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এই সরকার। যারা স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবেনা, মানুষের অধিকার রক্ষা করতে পারবেনা তাদের আমরা শাসক হিসেবে মানবোনা। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যে দেশ বিরোধী চুক্তি আপনি করেছেন তার সমুচিত জবাব বাংলাদেশের জনগণ, ছাত্রসমাজ দেবে। ’

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরি জয় বলেন,‘১৯৭১ সালে এই বাংলার জনগণ স্লোগান দিতো দিল্লি­ না ঢাকা? আজকে ও আমরা একই স্লোগান দিচ্ছি। দেশ পাল্টেছে কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টেনি। পূর্ববাংলা, বাংলাদেশে হয়েছে কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের সেই ক্ষমতাটুকু আজকে ভারত নিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়া হয় তাদেরকে পানি দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় তারা বাংলাদেশকে চুষে নিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে খুন করা হয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আবরার হত্যার বিচারের দাবি ও এই দেশ বিরুধী সকল চুক্তি বাতিলের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিলে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই’।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের কার্যকারী সদস্য রাকিবুল রনি বলেন,‘ আবরার খুন হয়েছে শুধু মাত্র ভারত পানি নিয়ে যাবে তার বিরোধিতা করার কারণে। আমরা এইখানে দাঁড়ানোর কারণে যে সকল যাত্রীরা মনে করতেছেন আমরা তাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছি। তাদের বলতে চাই, আবরাররের বাবার কষ্টের চেয়ে কি আপনাদের কষ্ট বেশি? আপনারা যারা উত্তর বঙ্গের আছেন আপনারা যাতে পানির কষ্টে না ভোগেন তার জন্যই কথা বলেছিলো আবরার। মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাকে খুন করেছে। আমরা বলতে চাই সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিচার না করার কারণেই তারা আজকে এমন কাজ করে আসছে। ছাত্রলীগ শুধু মাত্র সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সরকারের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছে তারা তাদেরকেই খুন করছে। আমরা বলতে চাই আবরারের খুনিদের শুধু বিচার করলেই হবে না তাদের সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে।’

অবরোধের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান উপস্থিত হয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরোধ উঠিয়ে নেন।